1. seopay01833@gmail.com : Reporter : Reporter
  2. fhbadshah95@gmail.com : MJHossain : M J Hossain
  3. g21@exnik.com : isaac10j54517 :
  4. Janet-Baader96@picklez.org : janetbaader69 :
  5. tristan@miki8.xyz : katherinflower :
  6. makaylafriday74@any.intained.com : makaylafriday8 :
  7. mdrakibhasan752@gmail.com : Rakib Hasan : Rakib Hasan
  8. g39@exnik.com : meredithbriley :
  9. muhibbbc1@gmail.com : Muhibullah Chy : Muhibullah Chy
  10. olamcevoy@baby.discopied.com : olamcevoy1234 :
  11. g2@exnik.com : roseannaoreily4 :
  12. b13@exnik.com : sebastianstanfor :
  13. g29@exnik.com : tangelamedina :
  14. g24@exnik.com : teenaligar6 :
  15. b15@exnik.com : xugmerri6352 :
  16. g16@exnik.com : yzvhildegarde :

বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের নিউজে আপনাকে স্বাগতম... আপনি ও চাইলে আমাদের পরিবারের একজন হতে পারেন । আজই যোগাযোগ করুন ।
বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্যসেন খাঁটি বাঙ্গালী

বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্যসেন খাঁটি বাঙ্গালী

Advertisements

Print Friendly, PDF & Email

মোঃ হাসান মাহমুদ,প্রতিনিধি চান্দগাঁও থানাঃ মাস্টারদার পুরো নাম সূ্র্য কুমার সেন। তবে মাস্টারদা নামে সহযোদ্ধাদের কাছে বেশ পরিচিত ছিলেন তিনি। ১২ জানুয়ারী শুক্রবার ছিল মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৪ তম ফাঁসি দিবস। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারী মধ্যরাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সূর্য সেন ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদায়ের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সূর্য সেন ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারকে ব্রিটিশ সেনারা নির্মম অত্যাচার করে। ব্রিটিশরা হাতুরী দিয়ে তাদের দাঁত ও হাঁড় ভেঙ্গে দেয়। হাতুরী দিয়ে ইচ্ছে মতো পিটিয়ে অত্যাচার করে। এই অত্যাচারের এক পর্যায়ে মাস্টারদা ও তারকেশ্বর দস্তিদার অজ্ঞান হয়ে যায়।

এরপর তাদের অর্ধমৃত দেহ গুলোকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে পুরো মৃত্যু নিশ্চিত করে। জেলখানা থেকে ট্রাকে তুলে চার নং স্টীমার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর মৃতদেহ দুটোকে বুকে লোহার টুকরা বেঁধে বঙ্গপসাগর ও ভারত মহাসাগর সংলগ্ন একটি জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়। যাতে কেউ মাস্টারদা ও তারকেশ্বরের মৃত দেহ ও খুঁজে না পায়।

চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবী নেতা তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় ও নিজের জীবনও বলিদান করেন দেশের জন্য। ভারতীয় প্রজাতান্ত্রিক বাহিনী চট্টগ্রাম শাখা গঠন করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় সশস্ত্র বিপ্লবের ডাক দেন মাস্টারদা সূর্য সেন। এছাড়া চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে ব্রিটিশদের হাত থেকে টানা চারদিন চট্টগ্রামকে মুক্ত রাখেন বিপ্লবীরা।

মাস্টারদার নেতৃত্বে অস্রাগার লুন্ঠন, ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ, জালালাবাদ যুদ্ধ হয়। মাস্টারদা ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার নোয়াপাড়া একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন, তাঁর পিতার নাম রাজমনি সেন এবং মাতার নাম শশী বালা সেন। মাস্টারদারা ছিলেন দুই ভাই ও চার বোন। শৈশবে পিতা মাতাকে হারিয়ে সূর্য সেন কাকা গৌরমনির কাছে মানুষ হয়েছেন।

ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী স্বভাবের ছিলেন। সেই সাধারন পরিবারের ছোট সূর্য একদিন আলো ছড়িয়ে পুরো দেশকে স্বাধীন করতে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছিল। কে জানতো সেই সূর্য কুমার সেনই একদিন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হয়ে যুগের পর যুগ লক্ষ কোটি মানুষের রিদয়ে স্থান করে নিবে।

১৯১৮ সালের বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বিএ পাশ করে চট্টগ্রামে ফিরে আচার্য হরিশ দত্তের জাতীয় স্কুলে শিক্ষাকতা শুরু করার মাধ্যমেই মাস্টারদার কর্মজীবন শুরু। অসহযোগ আন্দোলনের সময় বিদ্যালয়টি বদ্ধ হয়ে গেলে তিনি দেওয়ান বাজারের বিশিষ্ট উকিল অন্নদা চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত অধুনালুপ্ত ‘ উমাতারা উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে ‘ অংকের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়।

এই সময় বিপ্লবী দলের সাথে যুক্ত হয়ে ওঠেন এবং শিক্ষকতা করার কারনে তিনি মাস্টারদা হিসেবে পরিচিত লাভ করেন বিপ্লবী সহযোদ্ধাদের কাছে। ১৯১৬ সালে বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে অধ্যায়নত অবস্থায় উক্ত কলেজের অধ্যাপক সতীশচন্দ্র চক্রবর্তীর সান্নিধ্য লাভ করে সরাসরি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হন মাস্টারদা।

অধ্যাপক সতীশচন্দ্র তৎকালীন যুগান্তর দলের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে মাস্টারদাকে বিপ্লবী আদর্শে ও বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষা দেন। বিপ্লবী ভাব ধারায় দীক্ষিত সূর্য সেন দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকে একমাত্র তপসা হিসেবে নিয়েছিলেন। তাই তিনি বিবাহ – বিরোধী ছিলেন। কারন মাস্টারদা মনে করতেন, বিবাহিত জীবন তাঁকে কর্তব্য ভ্রষ্ট করবে, আদর্শচ্যুত করবে।

কিন্তু পারিবারিক ও আতীয় স্বজনের চাপে ১৯১৯ সালে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। যদিও বিবাহের তিনদিন পর মাস্টারদা বাড়ি থেকে পালিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন।১৯১৮ সালে শিক্ষা জীবন শেষে বহররমপুর থেকে ফিরে উমাতারা উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় গোপনে চট্টগ্রাম বিপ্লবী দলে যোগ দেন।

এরপর চট্টগ্রাম আগে থেকে গঠন করা দুই বিপ্লবী দল যুগান্তর ও অনুশীলনে যোগ না দিয়ে মাস্টারদা ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে বিপ্লবী অনৃরুপ সেন, চারুবিকাশ দত্ত, অম্বিকা চক্রবর্তী, নগেন্দ্র নাথ সেনদের সঙ্গে নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গোপন বিপ্লবী দল গঠন করেন। এর মধ্যে বিপ্লবী চারুবিকাশ দত্ত তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে অনুশীলন দলের সাথে যুক্ত হয়ে যান। যদিও ১৯২০ সালে গান্ধীজীর কর্তৃক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে অনেক বিপ্লবী এই আন্দোলনে যোগ দিলে কিছুদিন পর মাস্টারদাও যোগ দেন।

গান্ধীজীর অনুরোধে এক বছর বিপ্লবী কাজ বন্ধ রাখার পর ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলে বিপ্লবী দলগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯২৩ সালে ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর বর্তমান টাইগার পাস এলাকা থেকে মাস্টারদার গুপ্ত সমিতির সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে আসাম বেঙ্গল রেলওয়েল কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতনের ১৭,০০০ টাকার বস্তা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

ছিনতাইয়ের দুই সপ্তাহ পর গোপন বৈঠক বসলে পুলিশ টের পেয়ে বিপ্লবীদের আস্তানায় হানা দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে বিপ্লবীদের খন্ড যুদ্ধ হয়, যা ” নগর খানা পাহাড় যুদ্ধ ” নামে পরিচিত। মাস্টারদা ও অম্বিকা চক্রবর্তীকে রেলওয়েল ডাকাতি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। যদিও কিছু দিন পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারে তাঁরা দুজন ছাড়া পেয়ে যায়।

তৎকালীন সময় বিপ্লবী দলগুলোতে প্রথম দিকে মেয়েদের যোগ দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল বিভিন্ন কারনে। পরবর্তীতে প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তের মধ্যে বিপ্লবী আগুন দেখে মাস্টারদা মেয়েদের দলে যুক্ত না করার নির্দেশ শিথীল করেন। এরপর প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত যোগ দেন। ১৯২৮ সালেকলকাতায় নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে চট্টগ্রাম থেকে মাস্টারদাসহ অন্যান্যরা যোগ দেন। তখন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের সাথে মাস্টারদা বৈঠক হয়।

এর পরের বছর ১৯২৯ সালে মহিমচন্দ্র ও মাস্টারদা চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৩০ সালে মাস্টারদা ও অম্বিকা চক্রবর্তী চট্টগ্রাম আসকার খাঁর দিঘির পশ্চিম পাড়ে কংগ্রেস অফিসে সশস্ত্র বিপ্লবের রুপ রেখা নিয়ে আলোচনা করাকালীন আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রেনিত হয়ে নিজেদের দলের নাম পরিবর্তন করে ” ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চিটাগাং ব্রাঞ্চ ” বাংলায় ভারতীয় প্রজাতান্ত্রিক বাহিনী, চট্টগ্রাম শাখা ” করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে একটি দলকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। মাস্টারদার দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৫ জন, অম্বিকার ১৫ জন, অনন্ত সিং ও গণেশ ঘোষের ২২ জন এবং নির্মল সেনের ৬ জন।

চারটি দল অস্র সংগ্রহ ও বোমা তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছিল। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল শুক্রবার রাতে বিদ্রোহের দিন ঠিক করে চারদল চার বাড়ি থেকে বের হয়ে একদল ধুম রেল লাইনের ফিস প্লেট খুলে দেয়। এতে একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে যায়। যার কারনে চট্টগ্রামের সাথে সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে যায়। এই সুযোগে একদল নন্দনকানন টেলিফোন ও টেলিগ্রাফি অফিস দখল করে হাতুড়ি দিয়ে ভাংচুর করে, কেউ রেলওয়ে অস্রাগার দখল করে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী দামপাড়া পুলিশ রিজাভ ব্যারাক দখল করে আক্রমণে অংশ নেওয়া বিপ্লবীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে।

বিপ্লবীরা মিলিটারি কায়দায় কুচকাওয়াজ করে মাস্টারদা সূর্য সেনকে তাঁর আদর্শের সাথে সাহসী নেতৃত্বদানের জন্য সংবর্ধনা প্রধান করেন। ওই সময়ই মাস্টারদা অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠনের ঘোষনা দেন এবং পুরো চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসকদের হাত থেকে চারদিন মুক্ত রাখেন। ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল বিপ্লবীরা জালালাবাদ পাহাড়ে অবস্থান করলে ইংরেজ সৈন্যরা তাঁদের আক্রমণ করেন। টানা দুই ঘন্টা যুদ্ধে ব্রিটিশ সৈন্যদের ৭০জন নিহত হয় এবং বিপ্লবীদের মধ্যে ১২জন শহীদ হন।

জালালাবাদ যুদ্ধের পর মাস্টারদাকে গ্রেফতারের অনেক চেষ্টার পরও ব্যর্থ হয় ব্রিটিশ বাহিনী। কিন্তু বিপ্লবীদের মধ্যে কেউ কেউ ধরা পড়ে আবার কেউ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। ১৯৩০ সালের সেই ১৮ ই এপ্রিল চট্টগ্রাম ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গুড ফ্রাইডে থাকায় সেদিন ওই ক্লাবে কেউ ছিল না বলে মাস্টারদা ঠিক করেন পরের মাসের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা ওয়েদ্দারের নেতৃত্বে হামলা করা হবে।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা নেতৃত্বেই ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করা হয়। এই আক্রমণে ৫৩ জন ইংরেজ হতাহত হয়। গুলিতে আহত প্রীতিলতা দৈহিকভাবে অত্যাচারিত হওয়ার চাইতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বেচে নিয়ে পটাশিয়াম সায়ানাইড নামক একটি কঠিন বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। ইংরেজ প্রশাসন মাস্টারদাকে জীবিত অথবা মৃত ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা করে। পরে ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী সূর্য সেন ও ব্রজেন সেনকে অস্রসহ গৈড়না গ্রামে ক্ষীরোদপ্রভা র বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সূর্য সেনের লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনীর খাতা উদ্ধার করে। খাতার উপরে লেখা ছিল ” বিজয়া”।

সূর্যসেন, তারকেশ্বর ও কল্পনা দত্তকে বিচার করার জন্য ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ১২১/১২১ এ ধারা অনুযায়ী স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ১৯৩৩ সালের ১৪ই আগষ্ঠ এই রায় ঘোষনা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল সূর্য সেনকে ১২১ ধারায় মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। ওই একই ধারায় তারকেশ্বরও মৃত্যুদন্ড পায়। অন্যদিকে কুমারী কল্পনা দত্তকে ১২১ধারায় দোষী করে যাবদজ্জীবন দন্ডাদেশ করে। মামলার রায় প্রদানের পর তিন জনের পক্ষে কোলকাতা হাইকোর্টে আপিল করলেও ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট প্রদত্ত রায়ে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের দেয়া দন্ড বহাল রাখে।

এরপর সূর্য সেনকে চট্টগ্রাম কারাগারের কনডেমড সেলের নির্জন কুঠুরীতে রাখা হতো। একজন কয়েদি মেথর সূর্য সেনের লেখা চিঠি ময়লার ঝুড়িতে নিয়ে জেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বন্দী বিপ্লবীদের দিয়ে আসতো। মৃত্যুর আগে জেলে আটক বিপ্লবী কালীকিস্করের কাছে পেন্সিলে লেখা বার্তা পাঠান। সেই বার্তায় তিনি লেখেন ” আমার শেষ বানী আদর্শ ও একতা”। তাঁর ভাষায় ” ভারতের স্বাধীনতার বেদীমূলে যে সব দেশপ্রেমিক জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের নাম রক্তাক্ষয়ে অন্তরের অন্তরতম প্রদেশে লিখে রেখো”। এছাড়া তিনি সংগঠনের মধ্যে বিভেদ না আসার জন্য একান্ত ভাবে আবেদন করেন। এরপর ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারী গভীর রাতে মাস্টারদা সূর্য সেন ও তারকেশ্বরকে হাতুরী দিয়ে আঘাত করে হুশ হারিয়ে ফাঁসি দেয়। মাস্টারদা মৃত্যর আগে বিপ্লবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,, ” আমি তোমাদের জন্য রেখে গেলাম মাত্র একটি জিনিস তা হলো আমার একটি সোনালী স্বপ্ন।স্বাধীনতার স্বপ্ন। প্রিয় কমরেডস এগিয়ে চলো। সাফল্য আমাদের সুনিশ্চিত ” সূর্য সেনের সেই সংগ্রামী ও আদর্শিক পথ দেখানোর মাধ্যমে বিপ্লবী তৎপরতার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ পরাজিত হয়েছে। ঠিক একই ভাবে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে একই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে পাকিস্তানি শাসকদের পরাজিত করেছিল। বাঙ্গালীকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি। কারন বাঙ্গালী সূর্য সেন, প্রীতিলতা ও তিতুমীরের উত্তরসূরী। আজো আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে বাক স্বাধীনতার জন্য, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের জন্য, গণতান্ত্রিক ও শোষণ বৈষম্যহীন সমাজের জন্য। মানবিক পৃথিবী বিনির্মানের লড়াইয়ে মাস্টারদা আমাদের অনুপ্রেরণীয় হয়ে থাকবেন।

আপনার মতামত দিন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Advertisements

Comments are closed.

Advertisements



Advertisements
© All rights reserved © 2017-27 Bbcnews24.com.bd
Theme Developed BY ANI TV Team