রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের নিউজে আপনাকে স্বাগতম... আপনি ও চাইলে আমাদের পরিবারের একজন হতে পারেন । আজই যোগাযোগ করুন ।
ব্রেকিং নিউজ :
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় আঞ্চলিক সংগঠন (ইউপিডিএফ) প্রসিত গ্রুপ, কে নিষিদ্ধ করার দাবিতে  মানববন্ধন সাঁথিয়া সরকারি হাই স্কুলে প্রশ্নপত্র না থাকায় নির্বাচনী পরীক্ষা দিতে পারেনি ১৮৯জন শিক্ষার্থী ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার অভিভাবক সংগঠনঃ সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের ১ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন গোল্ডকাপ ফুটবল উদ্বোধন শিক্ষকতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন চট্টগ্রাম জেলা যুব কমিটির বিশাল মিছিল সম্রাটের অনুষ্ঠানে যোগ দাওয়ার উদ্দেশে জাপান যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি যুবলীগের সম্মেলন: বিভিন্ন পদে দেখা যেতে পারে নতুন মুখ বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে বেবি পাউডার জনসন অ্যান্ড জনসন

মরা মুরগী গুলো কি করা হয়।

Advertisements

বিবিসি নিউজ ২৪ ডেস্কঃ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ভোররাত ৩টা। রাজধানীর কাপ্তান বাজার তখন লাখ লাখ পোল্ট্রি-ব্রয়লার মুরগির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত। শত শত মিনি ট্রাকে খাঁচায় বন্দি মুরগি তখন বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে রাখা হয়েছে। এ সময় দেখা গেল একটি মিনি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ন-১৯-০২৫০) খাঁচার ওপরে অন্তত আট থেকে দশটি মরা মুরগি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। একইভাবে আশপাশের আরও কয়েকটি গাড়িতেও এমনই দৃশ্য দেখা যায়। পাশাপাশি ফুটপাতে বসা বিভিন্ন আড়তদারের চেয়ার-টেবিলের পাশেও যত্ন করে রাখা হয়েছিল মরা মুরগি। দীর্ঘ সময় এভাবে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় ওইসব মরা মুরগির অধিকাংশই বিভিন্ন পয়েন্টে গোপনে নিয়ে গিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরবর্তীতে জবাইকৃত তাজা বা টাটকা মুরগির সঙ্গে মিশিয়ে রাখা হচ্ছিল। যা সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন নামিদামি রেস্তোরাঁ, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, সুপারশপসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর পাইকারি মার্কেট হিসেবে পরিচিত কাপ্তান বাজার, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, ফকিরাপুলসহ বড় বাজারগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে মরা মুরগি তাজা বা টাটকা মুরগির সঙ্গে মিশিয়ে বাজারজাত করার মতো ভয়াবহ অপকর্ম লক্ষ করা যায়। এসব অনুসন্ধানের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি ও ভিডিও সময়ের আলোর কাছে সংরক্ষিত আছে। রাত ১টার সময় কাপ্তান বাজারে দেখা যায়, পুরান ঢাকার নবাবপুর রোডে এবং মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে বিশাল এই পাইকারি বাজারে তখন খাঁচা সংবলিত ছোট-বড় দুই শতাধিক ট্রাকে মুরগি আর মুরগি, যার বেশিরভাগই ব্রয়লার মুরগি। এ ছাড়াও ছিল লালচে কক ও পাকিস্তানি কক বলে পরিচিত মুরগিও। দেশীয় মুরগির সংখ্যা একেবারেই কম চোখে পড়েছে। এসব গাড়ির বেশিরভাগেই পাঁচ থেকে দশটি করে মরা মুরগি সযতে্ন রাখতে দেখা যায়। কোনো গাড়ির নিচে রাস্তাতেও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মরা মুরগি পড়ে ছিল।

গোপনে অবস্থানকালে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে গাড়িতে রাখা সেইসব মরা মুরগি দুজন লোক প্লাস্টিকের নীল ড্রামে ভরে নিয়ে যায়। এরপর কাপ্তান বাজারের ভেতরের সরু গলি দিয়ে তারা ভেতরে দক্ষিণদিকে চলে যায়। এভাবে আরও কিছু সময় কেটে যায়। তাদের অনুসরণের এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে কাপ্তান বাজারের দক্ষিণ পাশে নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে গেলে দেখা যায়, সেই দুই ব্যক্তি অনেকগুলো মুরগি বৃষ্টিভেজা রাস্তার ওপরে নোংরা অবস্থার মাঝেই চামড়া ছাড়ানোর কাজ করছে। যারা কিছুক্ষণ আগেও নীল ড্রাম নিয়ে মরা মুরগি কুড়িয়েছে। অবশ্য এখানে মুরগির সংখ্যা অনেক তথা শতাধিক দেখা যায়। পাশে মুরগির মাথাগুলো আলাদা করা ছিল। জিজ্ঞাসা করলে তারা ক্ষুব্ধভাবে জবাব দেয়, ‘মরা মুরগি কই পাইলেন? এইগুলা সবই তাজা, জবাই করা, মাথা-রক্ত দেইখ্যাও বুঝেন না?’
পরে কাপ্তান বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মরা মুরগি সাধারণত গাড়ি থেকে দ্রুত বের করে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলার কথা। এ জন্য প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত টাকাও দেওয়া হয়। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যেই একটি সিন্ডিকেট সেটি না করে অনেক সময় মরা মুরগিগুলো গোপনে তাজা জবাইকৃত মুরগির সঙ্গে মিশিয়ে সবই টাটকা হিসেবে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করছে। ওই ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, প্রতি রাতে কেবল কাপ্তান বাজারেই অন্তত পাঁচ শতাধিক মুরগি মরা অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া কারওয়ান বাজার ও যাত্রাবাড়ীতেও প্রচুর মরা মুরগি পাওয়া যায়। যেগুলো দেশের দূরদূরান্ত থেকে গাড়িযোগে আনার সময় বা অসুস্থ-স্ট্রোক করে মারা যায়। পরে এগুলো কোথায় যায়, তা একটু চিন্তা করলেই বোঝা যাবে বলে মন্তব্য করেন তারা। পরে এই ব্যবসায়ীর তথ্যমতে, মরা মুরগির জন্য নির্ধারিত মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে স্থাপিত ডাস্টবিনে গিয়েও সেখানে কোনো মরা মুরগি দেখা যায়নি।

আপনার মতামত দিন
bbc-news-24-ads

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Advertisements

Comments are closed.

Advertisements

অনলাইন ভোটে অংশগ্রহন করুন




Advertisements

Our English Site

© All rights reserved © 2017-27 Bbcnews24.com.bd
Theme Developed BY ANI TV Team