মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:০৯ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের নিউজে আপনাকে স্বাগতম... আপনি ও চাইলে আমাদের পরিবারের একজন হতে পারেন । আজই যোগাযোগ করুন ।
কাশ্মীর থেকে গাজওয়াতুল হিন্দ – গালিব পর্ব-২

কাশ্মীর থেকে গাজওয়াতুল হিন্দ – গালিব পর্ব-২

Advertisements

সম্পাদকীয়, বিবিসিনিউজ২৪ ডেস্ক: ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম, গাজওয়াতুল হিন্দ, দাজ্জাল, ঈসা আলাইহিস সালাম। চারটি এক সুতায় গাঁথা। একের পর একটি। কিন্তু আজকের আলোচনা ভিন্ন। বর্তমান কাশ্মির পরিস্থিতি কোনো ভাবে গাজাওয়াতুল হিন্দের সম্পর্কিত কিনা? মানে গাজওয়াতুল হিন্দ- বা হাদিসে উল্লেখিত ভারতের মহাযুদ্ধের সময় হয়েছে কিনা? সে দিকেই এগোবো।

বলেছি- চারটি ধাপ ধাপে ধাপে জড়িত। ইমাম মাহদী থেকে হযরত ঈসা। আসুন প্রত্যেকটা নিয়ে জানি। আগেই ইমাম মাহদী। খুব ছোট আলাপ আনছি। ইমাম মাহদী বিশাল অধ্যায়। এক লেখায় আনা অসম্ভব। অন্তত ফেসবুকে অসম্ভব। আজকের প্রসঙ্গে যা দরকার- তাই আনছি। আর রেফারেন্স কমেন্ট বক্সে পাবেন।

তিনি হবেন আহলে বাইত। মানে নবীবংশে জন্মাবেন। উঁন্নত নাক, ভরাট কপাল থাকবে। তাঁর নাম, পিতার নাম- দুটোই মদিনা-মুনিব (দ) এঁর মত হবে। পূর্বের কোনো দেশে জন্মাবেন। বা সেদিক থেকে আসবেন। এখানে পূর্ব বলতে মদিনার পূর্ব বুঝিয়েছেন। কারণ মদিনা-মুনিব (দ) মদিনা থেকে ইঙ্গিত করেছিলেন।

যাহোক, তাঁর আগমনের সময় তিনটি দল বেরোবে। যারা হবে খলিফা বা রাজারপুত্র (তিনপুত্র বিষয়ে ইমাম মাহদীকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বলা হবে)। তিনজনই মক্কাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ করবে। হাজ্বীদের লুণ্ঠন, হত্যাও করবে। সে সময়ই ইমাম হজ্বে যাবেন। মুমিনগণ তাঁকে আবিষ্কার করবেন। এবং বায়াত নিবেন, অঙ্গীকারাবদ্ধ হবেন। ইমামের আনুগত্য মেনে নেবেন। তিন দলের একটি জানবে তাঁর আবির্ভাবের কথা। তারা মানবে না। ইমামকে শহীদের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। কিন্তু মদিনার একটু আগে ভূমিগ্রাসে ধংস হবে।

যাহোক, এরপর খোরাসান থেকে কালো পতাকার একটি দল আসবে। ইমামের সাথে যোগ দিবে। ইমাম তখন অভিযান চালাবেন। সারাবিশ্ব জয় করবেন। এই কালো পতাকা নিয়ে কথা আছে। আগে খোরাসান কোন এলাকা এটা জানি।

hostseba.com

রংপুর আর বৃহত্তর রংপুর এক না। রংপুর বলতে শুধু রংপুর বুঝি। কিন্তু দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁ, পঞ্চগড় ইত্যাদি নিয়ে বৃহত্তর রংপুর। তেমনি সে যুগে খোরাসান বলতে বর্তমানের কোনো দেশ বুঝায় না। আধুনিক ইরাক থেকে ভারতের পশ্চিম সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত খোরাসান অঞ্চল। উজবেকিস্তান, তুর্কেমিনিস্তান, ইরান ও আফগানের কিছু অংশ। এখান থেকেই কালো পতাকা উঠবে।

আইএস কিন্তু কালো পতাকাধারী। তাই বলে এরাই সে দল না। কালো পতাকার কারবার আগেও হয়েছে। মানে আগেও কালো পতাকা উঠিয়েছে অনেকে। বুঝাতে চেয়েছে তারাই ইমাম মাহদীর দল। যেমন আব্বাসি রাজবংশ। কারবালার পর উমাইয়ারা শাসন দখল করে। উমাইয়াদের হটিয়ে আব্বাসিরা আসে। ৭৫০ সালের দিকে। আব্বাসিরা কালো পতাকা নিয়েছিল। কারণ একটাই; তারাও নিজেদের ইমাম মাহদীর দল ভাবত। বা সে হিসাবে নিজেদের পরিচিত করতে চাইত।

তো- প্রমাণিত যে কালো পতাকা মানেই সে দল না। আর কালো পতাকার উত্থান হবে ইমামের প্রকাশের পরে। বা সাথে সাথে। মোটামুটি অনুমান করা যায়, আগে হবার সুযোগ নেই। ইমাম এখনো আসেন নি। বর্তমান কোনো পতাকাই ইমাম মাহদীর না।

এরপরের কথা প্যাঁচালো। বুঝতে গিয়ে চোখ ব্যথা হয়েছে। গাজওয়াতুল হিন্দের বিভিন্ন হাদিস আছে। সেসব আগেই লিখেছি। ব্যাখ্যা করেছি। “গাজওয়াতুল হিন্দ” লেখাটা দেখতে পারেন। লিংক কমেন্টে। যাকগে, সামারি এমন-

মদিনা-মুনিব (দ) বলেন- দুটি দল জান্নাতি। এক, যারা হিন্দে যুদ্ধ করবে। দুই, যারা হযরত ঈসার সঙ্গী হবে। প্রমাণ করেছি দুটো দল এক। অন্তত আমার তাই মনে হয়েছে। সেই দল হিন্দ দখল করবে। দাজ্জালের আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। এরপর ফিরতি পথ ধরবে। পথিমধ্যে শাম এলাকায় হযরত ঈসার দেখা পাবে।

অন্য হাদিসে পাই- এই দলকে হিন্দে পাঠাবেন জেরুজালের এক অধিপতি। এখন এই অধিপতি কে? উত্তর পাই নি। কেউ জানলে জানাবেন প্লিজ। কয়েকটা পয়েন্ট খেয়াল করুন।

এক, হিন্দের যোদ্ধাদের পাঠাবেন জেরুজালেমের এক অধিপতি। দুই, তারা হযরত ঈসাকে পাবেন শামে, সিরিয়ায়। তিন, হযরত ঈসা ইমাম মাহদীর এবং দাজ্জালের আবির্ভাবের পরে আসবেন।

তাহলে- আমরা কি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, জেরুজালেমের সেই অধিপতি হবেন ইমাম মাহদী। তিনি হযরত ঈসা আসার আগেই জেরুজালেম দখল করবেন। এবং হিন্দে সৈন্য প্রেরণ করবেন। কিন্তু ইমাম মাহদী কখন জেরুজালেম দখল করবে- হযরত ঈসার আগে না পরে; এটা জানতে পারি নি। যাহোক, জেরুজালেমের সেই অধিপতি খোদ্ ইমাম মাহদীও হতে পারেন, ইমাম মাহদীর কোনও প্রতিনিধিও হতে পারেন, অন্য কেউও হতে পারেন। আল্লাহু ওয়া রসুলূহু আ’লাম।

কথা শেষ করছি। এটা তো জানলাম- গাজওয়ায়ে হিন্দ হবে হযরত ঈসা আসার কাছাকাছি সময়ে। হযরত ঈসা আসবেন ইমাম মাহদী এঁর পরে। তাহলে, আজকের কাশ্মির পরিস্থিতিতে গাজওয়ায়ে হিন্দ হওয়া অমূলক নয় কি? বিবেচনা আপনাদের।

প্রশ্ন বাকি একটাই। কাশ্মিরের পরিস্থিতি কি কোনোভাবে গাজওয়ায়ে হিন্দের সাথে সম্পর্কিত? যতদূর মনে হয়- হ্যাঁ সম্পর্কিত। কিন্তু এটাই গাজওয়ায়ে হিন্দ না। কীভাবে?

উত্তর বুঝানো জটিল। কয়েকটা ধাপ পেরোতে হবে। হাদিস থেকেই শুরু করি। বলা হয়েছে- হিন্দের রাজাদের বেড়ি পরিয়ে আনা হবে। এখানে রাজাদের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বহুবচন। একের অধিক রাজা। রাজা মানেই দেশ। আর রাজা বলতে কী বলা হয়েছে জানি না। আক্ষরিক অর্থে, না রূপক অর্থে- নিশ্চত নই। তবে প্রেসিডেন্ট/ প্রধানমন্ত্রী তো রাজাই। মুঘল পূর্ববর্তী ভারত একীভূত ছিল না। ইতিহাস রিপিট হবে হয়ত। নেশন স্টেটের কথা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আবার তা রাজা ও মন্ত্রীদের বোঝানো হতে পারে।

আরেকটা কথা। হযরত ঈসা দাজ্জালের প্রধান শত্রু। হিন্দের বিজয়ী বাহিনী হযরত ঈসার সাথে যোগ দিবে। তাই দাজ্জালের প্রত্যাশীরা হিন্দকে একটা টার্নিং পয়েন্ট ভাবছে- এটা বলাই যায়। কারণ দাজ্জালের পতনের শুরু এখান থেকেই। তাই ভারতের সাথে তাদের লেয়াজোঁ থাকা অস্বাভাবিক না। এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র সে কাজই করে যাচ্ছে।

জঙ্গি দলগুলোর আলাপ করি। সব জঙ্গিদল কাছাকাছি মানসিকতা রাখে। কিঞ্চিৎ আলাদা হলেও এদের মিল একখানে- এরা কেউই সুন্নি-সুফি না, সবাই অসুন্নি। আবার কিছু দরবারিও আছে যারা গজওয়াতুল হিন্দের জন্য আদাজল খেয়েছে। পারলে আজকেই করে ফেলে। আমাদের সতর্কতা জরুরী।

গাজওয়াতুল হিন্দ নিয়ে বেশি মেতেছে সালাফিবাদ কেন্দ্রিক জঙ্গিরা। বাংলাদেশে তাই দেখি। কিন্তু দেওবন্দ কেন্দ্রিক তালেবানদের মানসিকতা ভিন্ন। এরা কাশ্মিরের পক্ষে দাঁড়াতে চায় না। কারণ একটাই- কাশ্মিরিরা প্রায় সবাই বেরেলভি। ইমাম আ’লা হযরত আহমাদ রেযা খান এঁর দর্শন মানে। এটা আমার কথা না। দলীলটা কমেন্টবক্সে পাবেন। অবস্থাটা দেখুন- এরা বলে সুন্নি-সুফিরা নাকি ইসলামকে ভাগ করেছে। অথচ এদের ভেতরেই ফেরকাবাজি কী পরিমাণ!

ইমাম মাহদী আসলে এমনি সব ঠিক হবে। কিন্তু আপনাদের বর্তমানে ফিরে আসা দরকার। চোখ খুলুন। প্রশ্ন করুন। মুসলিমরা আধুনিক সভ্যতায় করছেটা কী? ইয়ামেনে মুসলিম নামধারীরাই মুসলিম মারে। ফিলিস্তিনে ইজরাইলকে খোদ আপনাদের গুরুঠাকুরেরা সমর্থন দেয়। এরা ফতোয়া দেয়- ইজরাইলের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। আজ মুসলিমদের ৬৫ শতাংশ অশিক্ষিত। বেশীরভাগ দারিদ্র সীমায়। এতটা পঙ্গু মুসলিমরা ইতিহাসে হয় নি। জিহাদ জিহাদ করেন- কী করতে পারবেন অস্ত্র হাতে নিয়ে? সিক্স ডে ওয়ারের কথা মনে আছে?

সাতষট্টি সালের কথা। সিরিয়া, ইয়ামেন, মিশর তিন দেশ মিলে ইজরাইলের সাথে যুদ্ধ হয়। ইজরাইল তখন নতুন গড়ে উঠছে। আজকের মত ছিল না। আর তখনি তিন তিনটা দেশ মিলে একটা ছোট্ট দেশের সাথে পারে নি। ছয় দিনেই নাস্তনাবুদ হয়েছে। শুধু কি তিন দেশ? সমস্ত আরব তাদের পেছনে ছিল। ছিল পাকিস্তানও। আর আজকে বোমা মাইরা জিহাদ করবেন! কি উল্টায় ফেলবেন?

জিব্রাইল নেমেই প্রথমে বলছিল- “পড়ুন, আপনার খোদার নামে”। দোহাই, খোদার নামে পড়তে শুরু করুন। না শিখলে, না শিক্ষিত হলে- এর থেকেও ভয়ংকর অবস্থা আসবে। এই যে ফেসবুক- এটাও আপনাদের শত্রুদের। কী লজ্জা, ভেবেছেন- শত্রুদের জিনিষ দিয়ে আপনাদের জাগতে বলি। কতটা অসহায় আমরা!

পায়ের তলায় মাটি নেই। মুসলিম মুসলিম করেন- কিন্তু মুসলিমদের মধ্যে উম্মাহ চেতনা আদৌ আছে কি? প্রায় সব আরব দেশেই আজ পশ্চিমা তাবেদার। আপনারা নিজেদের শাসক সামলাতে পারেন না- আর বিশ্ব দখল করবেন! বাংলাদেশের দরবারগুলো একে অন্যকে মানে না। আপনারা ছোটদেশে গুঁটি কয়েক সুন্নি সামলাইতে পারেন না। আর পনে-দুইশ কোটি মুসলিম সামলাইবেন! কী মনে হয় জানেন? মনে হয়- প্রায় পুরো মুসলিম জাতিটাই পাবনায় যাবার উপযোগী।

বলছি না অন্যায়ের বিরোধিতা করব না। ভুলবেন না- আপনি কাঁটাতার ঘেরা রাস্ট্রের বাসিন্দা। রাষ্ট্র এত সহজ না। ইতিহাস এত সস্তা না। ৭১ জলে ভেসে যাবে না।

বুদ্ধিবৃত্তিক হন। নিজেকে বিশেষ সক্ষমতায় নিন। সমাজকে সত্যিকার মধ্যপন্থী আদর্শানুযায়ী বানান। উগ্র না, উগ্রতা না। সিস্টেমকে প্রভাবিত করে বাধ্য করুন মজলুমের পাশে দাঁড়াতে। ইতিহাসের ধারাপাতে- মুসলিম উম্মাহ আজ বালির বাঁধ। নিজেকে কংক্রিট করুন। নাইলে লাফিয়ে লাভ নেই।

ধৈর্য ধরুন। মনে রাখিয়েন- সময় সব সময় কথা বলে। ইমাম আ’লা হযরত বলেছেন না- হার কাম কি এক ওয়াক্ত হ্যাঁয় রেযা।

– প্রত্যেক কাজের একটা সময় আছে হে রেযা।

 

-লিখেছেন কবি মাহাদি গালিব

আপনার মতামত দিন
bbc-news-24-ads

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Advertisements

Comments are closed.

Advertisements

অনলাইন ভোটে অংশগ্রহন করুন




Advertisements

Our English Site

© All rights reserved © 2017-27 Bbcnews24.com.bd
Theme Developed BY ANI TV Team