শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের নিউজে আপনাকে স্বাগতম... আপনি ও চাইলে আমাদের পরিবারের একজন হতে পারেন । আজই যোগাযোগ করুন ।

১৫ই আগস্ট একটি বেদনার দিন:হাসান ফয়সাল

Advertisements

বিবিসি নিউজ২৪ ডেস্ক :১৫ আগস্ট জাতীয় শোক ও বেদনার দিন। এই দিনেই ঘাতকেরা হত্যা করেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তারা হত্যা করে 

শিশু-নারীসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে। আমাদের ইতিহাসে এ রকম নৃশংসতার নজির নেই। সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে ছিলেন বলে বেঁচে যান। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি

কেন কুচক্রীরা সেদিন বঙ্গবন্ধুকেই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছিল? এটি নিছক ব্যক্তিবিশেষের হত্যাকাণ্ড ছিল না; ছিল জাতির অস্তিত্বের ওপর আঘাত। এর মাধ্যমে যে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই নীতি ও আদর্শকেই ঘাতকেরা হত্যা করতে চেয়েছিল। তারা প্রথম সুযোগে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি বিসর্জন দেয়, বাংলাদেশ বেতারের নাম পরিবর্তন করে পাকিস্তানি ধারায় এর নামকরণ করে রেডিও বাংলাদেশ। সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে ফেলে।

১৫ আগস্টের কুচক্রীরা বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে না পারলেও তারা রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে ক্ষত তৈরি করেছিল, তার রেশ এখনো রয়ে গেছে। ১৫ 
আগস্টের পর ঘাতকেরা জেলখানায় বঙ্গবন্ধুর চার সহযোগী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও এম মনসুর আলীকে হত্যা করে। ক্ষমতা জবরদখলকারী খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি জারি করে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান সেই অধ্যাদেশকেই পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনে পরিণত করেন, যা বাতিল করতে জাতিকে ২১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।

নানা বাধাবিপত্তি কাটিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের উদ্যোগ নিলেও এক মেয়াদে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকাজ সম্পন্ন এবং পাঁচ ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এটি যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনি বিদেশে পলাতক ছয় খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে না পারা দুর্ভাগ্যজনক।

hostseba.com

এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা বলা হলেও কার্যত তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই, এই অজুহাত তুলে কানাডা সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম দণ্ডিত আসামি নূর চৌধুরীকে ফেরত না পাঠানোর যুক্তি দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রাশেদ চৌধুরীর বেলায় সেই বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মার্কিন সরকার এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যদিও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র অপরাধীদের স্বর্গভূমি নয়।

যুক্তরাষ্ট্র যদি অপরাধীদের স্বর্গভূমি–ই না হবে, তাহলে এ রকম একজন আত্মস্বীকৃত ও দণ্ডিত অপরাধী কেন সেখানে আশ্রয় পেয়ে নিরাপদে থাকবে? ওই দুই ব্যক্তি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে অপরাধ সংঘটিত করেছেন। অতএব, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রযোজ্য হতে পারে না। নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরীসহ বিদেশে আশ্রিত সব খুনিকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে তাই কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জোরালো দেনদরবার অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

জাতীয় শোক দিবস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তিনি যে সোনার বাংলা ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন আমরা কতটা পূরণ করতে পেরেছি? তাঁর স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু আজকের বাংলাদেশ সেই চেতনা ও মূল্যবোধ থেকে অনেক দূরে। শুধু আনুষ্ঠানিকতার বৃত্তে বন্দী না থকে চিন্তা, মনন ও কর্মে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই তাঁর আরাধ্য সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাঁর স্বপ্নের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সমতাভিত্তিক সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার

আপনার মতামত দিন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Advertisements

Comments are closed.

Advertisements

অনলাইন ভোটে অংশগ্রহন করুন




Advertisements

Our English Site

© All rights reserved © 2017-27 Bbcnews24.com.bd
Theme Developed BY ANI TV Team