বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০২:২২ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের নিউজে আপনাকে স্বাগতম... আপনি ও চাইলে আমাদের পরিবারের একজন হতে পারেন । আজই যোগাযোগ করুন ।
নুসরাত হত্যা মামলা: আসামিপক্ষের হুমকিতে ভীত সাক্ষীরা

নুসরাত হত্যা মামলা: আসামিপক্ষের হুমকিতে ভীত সাক্ষীরা

Advertisements

ফেনী প্রতিনিধি: সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার সাক্ষীরা আসামির স্বজনদের অব্যাহত হুমকির মুখে আছেন। এ জন্য আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তাঁরা সব কথা তুলে ধরতে পারছেন না। সরেজমিনে মামলার সাক্ষীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এ মামলার সাক্ষীর সংখ্যা ৯২। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য দেওয়ার আগে তাঁদের বেশির ভাগ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকির মুখে পড়েন। আদালতে এই মামলায় আসামিদের কৌঁসুলি ১৬ জন।

অন্যদিকে বাদীর কৌঁসুলি একজন। আর রাষ্ট্রের হয়ে একজন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) লড়ছেন। আদালতে বাদীপক্ষের তেমন কেউ নেই। অথচ আসামিদের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুনানির সময় আদালত চত্বরে ভিড় করেন। এতে সাক্ষীদের ওপর একধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ পড়ছে। গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পোড়ানো হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি।

পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সরেজমিন চিত্র গত রোববার বোরকা বিক্রেতা জসিম উদ্দিন ও তাঁর দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন এবং কেরোসিন বিক্রেতা মো. লোকমান ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। আসামি কামরুন্নাহার মনি জসিমের দোকান থেকে কালো বোরকা কিনেছিলেন। আর লোকমানের দোকান থেকে কেরোসিন কেনেন আসামি শাহাদাত হোসেন। রোববার দুপুরে ফেনীর আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার আগের রাতে জসিম উদ্দিনকে হুমকি দেন আসামির লোকজন।

আদালতে সঠিক বক্তব্য তুলে না ধরতে রাত আড়াইটা পর্যন্ত তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাদীর কৌঁসুলির পরামর্শে তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। রোববার আসামির কৌঁসুলিরা একের পর এক প্রশ্ন করছিলেন জসিমকে। এতে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি আদালতে বলেন, সাক্ষী হিসেবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি সই করেছেন। কিন্তু সই করার আগে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে বক্তব্য পড়ে শোনাননি কিংবা তিনি নিজেও বক্তব্য পড়েননি। পরে অবশ্য বিচারক তাঁকে আবার এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন।

তখন জসিম বলেন, সই নেওয়ার আগে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে বক্তব্য পড়ে শোনান। জসিমের এমন সাক্ষ্য প্রসঙ্গে বাদীর কৌঁসুলি এম শাহজাহান বলেন, ‘শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত জসিমকে হুমকি দেওয়া হয়, যাতে আদালতে সত্য তথ্য উপস্থাপন না করেন। বারবার মুঠোফোনে কল আসার কারণে তাঁর ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। রাতেই বিষয়টি জানতে পেরে আমি তাঁকে মোবাইল ফোন বন্ধ করতে বলি।’ শাহজাহান জানান, শুধু জসিম নন, প্রত্যেক সাক্ষীকে আসামির স্বজনেরা হুমকি দিচ্ছেন। নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে সাক্ষীরা স্বাভাবিক কথা আদালতে বলতে পারছেন না। কিছু সাক্ষীকে লোভ দেখানো হচ্ছে বলেও জেনেছি। তবে সাক্ষীদের অভয় দিচ্ছি, যাতে আসল ঘটনা তাঁরা আদালতে তুলে ধরেন। কারণ সরকারও এ মামলাটির ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ।

ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না।’ আদালতে বিভ্রান্তিকর কথা বলার কারণ জানতে চাইলে বোরকা বিক্রেতা জসিম উদ্দিন হুমকি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কাঠগড়ায় আঁর গা কাঁপছিল। কী কইতে কী কইছি মনে নাই।’ শুধু জসিম উদ্দিন নন, প্রায় সব সাক্ষীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ জন্য সাক্ষীদের নিরাপত্তা ছাড়াও আসামির স্বজনদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে পিবিআই।

hostseba.com

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘মামলার কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা গুছিয়ে এনেছিলাম। সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে আসামির স্বজনদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা লোভ দেখানোর বিষয়টি আমরা জেনেছি। সবকিছু নজরদারিতে আছে।

আপনার মতামত দিন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Advertisements

Comments are closed.

Advertisements

অনলাইন ভোটে অংশগ্রহন করুন




Advertisements

Our English Site

© All rights reserved © 2017-27 Bbcnews24.com.bd
Theme Developed BY ANI TV Team