মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের নিউজে আপনাকে স্বাগতম... আপনি ও চাইলে আমাদের পরিবারের একজন হতে পারেন । আজই যোগাযোগ করুন ।

পবিত্র রমজান ও আমাদের করণীয় : তাওহীদুল ইসলাম নূরী

পবিত্র রমজান ও আমাদের করণীয় : তাওহীদুল ইসলাম নূরী
পবিত্র রমজান ও আমাদের করণীয় : তাওহীদুল ইসলাম নূরী
Advertisements

বিবিসি নিউজ২৪ ডেস্ক:দেখতে দেখতে এগারটি মাস আমাদের জীবন চক্র থেকে চলে যাওয়ার পর আবার এসে দাঁড়াল পবিত্র রমজান মাস। ” স্বাগতম মাহে রমজান”৷ বেশ কয়েকটি দিক বিবেচনা করলে এ মাসের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআন নাযিলের মাস এটি।

স্বয়ং আল কোরআন দিয়েই সত্যতা যাচাই করা যাক, এরশাদ হচ্ছে “নিশ্চয় আমি এ কোরআন নাযিল করেছি কদরের রাতে”। এখন প্রশ্ন জাগে এখানে তো কদরের রাতে নাযিল হয়েছে বলা হয়েছে,রমজানের উল্লেখ নাই। উত্তরে উঠে আসে রমজান মাসেই তো কদরের পবিত্র রজনী বিদ্যমান। বান্দার গুনাহ সবচেয়ে বেশি মাফ হওয়ার মাস রমজান। এ মাসে বান্দার আবেদন সবচেয়ে বেশি কবুল হয়। এ মাসেই আল্লাহ অসংখ্য পাপীকে ক্ষমা করে জান্নাত দান করেন।

কোন ধারায় আমরা রমজান পেলাম? কেন রমজান আমাদের কাছে আসল? এমন হাজার প্রশ্ন বান্দার মনে জাগতে পারে। আল্লাহ তাই কোরআনে এরশাদ করেছেন “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেমনটা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বপুরুষদের উপর,যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার”। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তাই দেখা যায়। পূর্ববর্তী নবী ও তাদের অনুসারীদের উপর রমজানের বিধান ছিল। আবার আয়াতের শেষের অংশের বাস্তবতা তো আমরা লক্ষ করে থাকি। রাসুল (স.) বলেছেন বান্দা যাতে মুত্তাকী হয়ে সকল প্রকার অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে আল্লাহর গোলামী করতে পারে সেজন্য আল্লাহর তরফ থেকে রমজানে তিনটি কাজ করা হয় : ১। জান্নাতের দরজা সমূহ খোলে দেওয়া হয়। ২। জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৩। রমজানের শুরুতেই গোনাহের শক্তি সামর্থ্য হ্রাস করতে শয়তানকে শিকলাবদ্ধ করা হয়। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে এ মাসের একটি নফল অন্য মাসের

ফরজের সমান, আর একটি ফরজ অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান। অন্যদিকে আল্লাহ বলেছেন ” সাওম আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিাদান দেব “৷ যা অন্য কোন ইবাদতের ব্যাপারে বলা হয় নি। হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে সাওম পালন করে সমস্থ অন্যায় অশ্লীল কাজ থেকে দূরে থাকে আল্লাহ তার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেন। রোজা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝাতে গিয়ে হাদিসের অন্য জায়গায় রাসুল (স.) বলেছেন ‘সাওম হল ঈমানের জন্য ঢাল স্বরূপ”। বান্দা রোজা রাখার কারণে মুখ দিয়ে যে দুর্গন্ধ বের হয় আল্লাহ যদি সেটাকে মেশক আম্বরের মত কবুল করেন, তাহলে আর কী চাই? সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতার সামনে নিয়ে বান্দাহ যে দোয়াই করেন,আল্লাহ তাতে সাড়া দেন। আবার অনেক বান্দা আছেন যারা রোজা রেখেও আল্লাহর কাছে রোজাদার হিসেবে কবুল হন না। তারা হল ঐ সমস্থ রোজাদার, যারা রোজা রেখেও অন্যের ক্ষতি সাধন করে। আল্লাহর দেয়া হুকুমের প্রতি কোন প্রকারের পরোয়া না করে অন্যায় অশ্লীল কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে। তাদের ব্যাপারে হাদিসে এসেছে তােদর রোজা উপোস থাকার মতই, এবং কিয়ামতের ময়দানে এই রোজা তাদের কোন উপকারে আসবে না। তবে হ্যাঁ, এমনও অনেক রোজাদার আছেন যাদেরকে একপ্রকার বাধ্য হয়েই হানাহানিতে লিপ্ত হতে হয়। হাদিসে এসেছে যদি কেউ নিজ থেকে রোজাদারদের সাথে অসদাচরণ করতে চায়, তাহলে রোজাদার বলবে ” আমি রোজাদার “। এ মাসে যে কয়টি আমাদের বেশি বেশি করতে হবে : ১। বেশি বেশি এস্তেগফার করা ২। জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া ৩৷ জান্নাত প্রার্থনা করা ৪। কালিমায়ে তৈয়বা বেশি বেশি পাঠ করা ৫। কোরআন শিখা, কোরআন পড়া ও কোরআন বুঝা ৬। শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদের অভ্যাস করা ৭। উঠতে,বসতে যিকিরের অভ্যাস করা ৮। রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফের চেষ্টা করা। আল্লাহ আমাদের

সকলকে সমস্থ অন্যায় অশ্লীল কাজ থেকে দূরে রেখে রমজানকে কাজে লাগিয়ে তার বান্দেগীর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাত উপযোগি একজন মানুষ হিসেবে কবুল করুন….. ‘ আমিন’। মাআসসালাম তাওহীদুল ইসলাম নূরী আইন বিভাগ (অধ্যয়নরত), আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম। শাহারবিল সদর, চকরিয়া, কক্সবাজার।

hostseba.com
আপনার মতামত দিন
bbc-news-24-ads

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Advertisements

Comments are closed.

Advertisements

অনলাইন ভোটে অংশগ্রহন করুন




Advertisements

Our English Site

© All rights reserved © 2017-27 Bbcnews24.com.bd
Theme Developed BY ANI TV Team