মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের নিউজে আপনাকে স্বাগতম... আপনি ও চাইলে আমাদের পরিবারের একজন হতে পারেন । আজই যোগাযোগ করুন ।
নিরপরাধ সাধারন মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় – প্রধানমন্ত্রী!

নিরপরাধ সাধারন মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় – প্রধানমন্ত্রী!

Advertisements

বিবিসিনিউজ২৪,ডেস্ক ঃ দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অন্যায়ে লিপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, কিন্তু কোনো নিরাপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়।

র‌্যাবের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দরবারে র‌্যাব সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি একথা বলেন। খবর বাসসের

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিষয় সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে– যারা অন্যায় করবে, সে যেই হোক, অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে, সাথে সাথে এটাও দেখতে হবে যে, অযথা কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়।’

কোনো আইন প্রয়োগের সময় মানবাধিকারের বিষয়টার প্রতি লক্ষ্য রেখেই ‘দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন’ এই নীতি অবলম্বন করেই প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কাজ করার আহ্বান জানান।

নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আজকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো সহজ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের একটা রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। তবে, এই উন্নয়নের ধারাটা তখনই অব্যাহত থাকবে যথন আমরা দেশে বর্তমানের ন্যায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারবো।’

hostseba.com

তিনি অপরাধ প্রবণতা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতায় যুক্ত হওয়া প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলায় নজর দিতে র‌্যাবের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘অপরাধ যারা করবে অর্থাৎ অপরাধীকে গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা সেটাও যেমন আমাদের কাজ, তেমনি অপরাধের সাথে কেউ যেন যুক্ত না হয় সেই ব্যবস্থাটাও আমাদের নিতে হবে। আর সেটা করতে হলে একটা সমাজিক সচেতনটা সৃষ্টি করা দরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এই কথাটা সকলের উদ্দেশ্যে বলবো– আপনারা সকলে সেই বিষয়টার প্রতি দৃষ্টি দেবেন যেন কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে কেউ যেন যুক্ত না হয়।’

র‌্যাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীলকরণে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে, জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং মনে রাখতে হবে– যেহেতু সকলেই এই দেশের সন্তান তাই দেশের উন্নতি হলে, আর্থসামাজিক উন্নয়ন হলে এর সুফলটা নিজ নিজ পরিবারের সদস্যরাই পাবে, দেশের মানুষই পাবে। সেই সাথে গ্রামে-গঞ্জে যারা বসবাস করেন, তাদের ভাগ্যের উন্নতি হবে। বাংলাদেশেই সার্বিকভাবে দারিদ্রমুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘দেশটার উন্নয়ন হলে কেউ গৃহহীন থাকবে না, সকলেই আবাসন সুবিধা, অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসাসহ মৌলিক সুবিধাগুলোগুলো নিয়ে সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ লাভ করবে এবং সমগ্র জাতিই উন্নত সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে উঠবে, যে সপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

কয়েক দফায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, আবাসন সংকট সমাধান এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে যানবাহনের সুবিধা বৃদ্ধিতে তার সরকারের উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে আমরা যতটা স্বাবলম্বী হতে পারবো ততটাই আমরা সুযোগ-সুবিধা দিতে পারবো এবং আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই সুন্দরভাবে যেন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে সেটাই আমরা চাই। এজন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন স্ব -স্ব ক্ষেত্রে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে তাদের সেই কাজের সুবিধাটা আমরা করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, আন্তরিকতা, সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার, জাল মুদ্রা, জাল পাসপোর্ট প্রস্তুতকারী, অবৈধ ভিওআইপি বিরোধী অভিযান এবং ভেজাল বিরোধীসহ নানা অভিযানে র‌্যাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, ‘কাজেই র‌্যাবের সদস্যগণ দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যে অবদান রেখেছে আমি এটুকু বিশ্বাস করি যে, দেশের মানুষেরও একটা আস্থা ও বিশ্বাস র‌্যাবের সদস্যদের প্রতি জন্মেছে এবং তারা র‌্যাবকে যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখে।’

সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যুদের দমন করে তাদের সাধারণ জীবনে পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের বিশেষ ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি র‌্যাবের সদস্যদের ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘তারা এই পুরো এলাকাটা দস্যুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।’

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার জন্য তার সরকার ২০১২ সালে একটি টাস্ক ফোর্স করে দেয় এবং যৌথবাহিনী প্রায়ই সেখানে অভিযান পরিচালনা করতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার মতামত দিন
bbc-news-24-ads

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Advertisements

Comments are closed.

Advertisements

অনলাইন ভোটে অংশগ্রহন করুন




Advertisements

Our English Site

© All rights reserved © 2017-27 Bbcnews24.com.bd
Theme Developed BY ANI TV Team