সাতক্ষীরার আওয়ামীলীগ নেতা সোলাইমান হত্যা মামলার সাক্ষী ফারুক গ্রেপ্তার!

0
31
সাতক্ষীরার আওয়ামীলীগ নেতা সোলাইমান হত্যা মামলার সাক্ষী ফারুক প্রেপ্তার!
সাতক্ষীরার আওয়ামীলীগ নেতা সোলাইমান হত্যা মামলার সাক্ষী ফারুক প্রেপ্তার!

সাতক্ষীরার আওয়ামীলীগ নেতা সোলাইমান হত্যা

মামলার সাক্ষী ফারুক গ্রেপ্তার!

ফিরোজ জোয়ার্দ্দার,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে চাঞ্চল্যকর আওয়ামীলীগ নেতা সোলাইমান হত্যা মামলার সাক্ষী ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনকে সিআইডি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে রোববার রাতে সাতক্ষীরা শহরতলীর পাকাপুলের উপর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির (অর্গানাইজ) উপ- পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত অন্য আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে এ গ্রেপ্তার করার পর ছেড়ে দেয়।

গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হোসেন (৩৫) সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বসুখালি গ্রামের অমেদ আলীর ছেলে।
সে শোভনালী ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ও শোভনালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ঝায়ামারি গ্রামের সোলাইমান গাজীর সঙ্গে একই এলাকার তালেব পেয়াদার ছেলে ওহাব আলী পেয়াদার ও তার ভাইদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বছরের ১৯ নভেম্বর দিবাগত রাত ৮ টার দিকে সন্নাসী চকের সাহেব আলীর চায়ের দোকান থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে রাতের কোন এক সময়ে আশাশুনি উপজেলার কৈখালি গ্রামের ভবতোষ মন্ডলের বাড়ির সামনে সোলায়মানকে জবাই করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সামিউল্লাহ গাজী বাদি হয়ে ওহাব আলী পেয়াদারসহ ১৫ জনের নাম উল্লে¬খ করে পরদিন আশাশুনি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই আমিরুল ইসলাম নামের এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১০ জন আসামী মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তবর্তীকালিন জামিন গ্রহন করে। পরে ২৩ ডিসেম্বর মামলার সঠিক তদন্ত দায়ভার পড়েন আশাশুনি থানার উপ- পরিদর্শক নয়ন চৌধুরীর হাতে। তার হাত থেকে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত শনিবার কালিগঞ্জ উপজেলার সন্নাসীর চক গ্রামের গোলাম মোস্তফা ঢালীর ছেলে আজাহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন সিআইডি।

আর রবিবার সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম রাজীব রায় এর খাস কামরায় আজাহারুল তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে নিজেকে সোলায়মান হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।
এরই সূত্র ধরে রোববার সন্ধ্যায় শহরের পাকাপুলের উপর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার সাক্ষী ফারুক হোসেনকে।মামলার বাদি সামিউল্লাহ গাজী, নিহত সোলাইমানের স্ত্রী আয়েশা ও ছেলে শাহীন গাজীর অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর গত ১১ জানুয়ারী দুপুর দু’ টার দিকে সাতক্ষীরা আদালতের সামনে থেকে এজাহারভুক্ত আব্দুর রশীদ তার ভাই শহীদ হোসেন, ইয়াকুব আলী ও জলিল পেয়াদারকে ধরে নিয়ে যায়। পরে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেন হুমায়ন।

একই ভাবে ওই কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আসামীদের দারা প্রভাবিত হয়ে তাকে দিয়ে সাক্ষী ফারুকের নাম উল্লেখ করিয়ে পরিকল্পিতভাবে গ্রেপ্তার করিয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। তারা ফারুকে হোসেনকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির (অর্গানাইজ) উপ- পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আজাহারুলের জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্য যাঁচাই বাছাই করে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ সোমবার আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জাানানো হবে। তবে গত ১১ জানুয়ারী এ মামলায় আটককৃত চারজন হাইকোর্টের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখানোয় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

MAXZIONIT