সন্ধ্যা নদীতে চরদখলের মহোৎসব!

0
36
সন্ধ্যা নদীতে চরদখলের মহোৎসব BBCNEWS24
সন্ধ্যা নদীতে চরদখলের মহোৎসব BBCNEWS24

সন্ধ্যা নদীতে চরদখলের

মহোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে জেগে ওঠা চরদখলের মহোৎসব চলছে। থানা পুলিশের বাঁধাকে উপেক্ষা করে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত নদীর তীরবর্তী মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকার পাশে জেগে ওঠা নতুন চরদখল করেছেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শরিফ আহমেদ কিসলু ও তার সহযোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯০দশকে বানারীপাড়া বন্দরের মৎস্য বাজারসহ আশপাশ এলাকার জমি সন্ধ্যা নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। কয়েক বছর আগে সেখানে চর জেগে ওঠার পর পৌরসভার উদ্যোগে বাজার রক্ষার বাঁধ নির্মান করা হয়। ওই বাঁধের লাগোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অতিসম্প্রতি একটি চর জেগে ওঠে। সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শরিফ আহম্মেদ কিসলুসহ ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা-কর্মীরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র কাছে ডিসিআরের জন্য আবেদন করেন। আবেদন করেই প্রভাবশালীরা শুক্রবার সকাল থেকে বাঁশ গেড়ে চর দখল শুরু করেছেন।

পৌরসভার বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার আয়তন ও বন্দর বাজার সম্প্রসারনের জন্য বর্তমান পৌর মেয়র বাজার সংলগ্ন কোন জমি যাতে বন্দোবস্ত না দেয়া হয় সেজন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার ভূমিকে অবহিত করে রেখেছেন।সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের মাছ বাজার থেকে শুরু করে প্রায় ১৫০ ফুট লম্বা ও একই পরিমানের দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বাঁশের খুটি পোতা হয়েছে। বাঁশের খুটির সাথে পুরনো টিন দিয়ে বেড়া দেয়ার কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানান, টিনের বেড়া দেয়ার কাজ শেষে সেখানে বালু ফেলে ভরাট কাজ শুরু করবেন দখলদাররা। চারিদিকে বাঁশের খুটি পোতার কারনে নদীতে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

বানারীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে জেগে ওঠা এই চরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এজেড সাইয়েদ মোর্শেদ আলী পার্ক, রেস্টহাউস, ফুড কর্নার, মসজিদ ও মন্দির নির্মান প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। এরইমধ্যে ওই ইউএনও বানারীপাড়া থেকে বদলি হওয়ার পরে প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বানারীপাড়া মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের একাধিক দাগের চরে কয়েক একর জমি রয়েছে। বিধি অনুযায়ী প্রশাসন ওই খাস জমি বন্দোবস্ত ও দখল বুঝিয়ে দেয়ার পরেই বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন। কিন্তু এখানে ঘটছে উল্টো ঘটনা। আবেদন করেই নদী দখল শুরু করেছে প্রভাবশালীরা।

দখলের তালিকায় রয়েছেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শরিফ উদ্দিন আহমেদ কিসলু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এ্যাডভোকেট মাহমুদ হোসেন মাখন, যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন মোল্লা, সদস্য জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা যুবলীগের একাংশের সভাপতি নুরুল হুদা তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মুনতাকিম লস্কর কায়েস, সহসভাপতি সুমম রায় সুমন, শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সুলতান হোসেন, যুবলীগ নেতা অপু খান ও মোঃ বাচ্চু।

সরকারী খাল দখল : প্রশাসনের নাগের ডগায় জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের (থানার সামনের) সরকারী খাল দখল করে পাকা দোকান ঘর নির্মান কাজ করছেন বাকাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিপুল দাসের ছোট ভাই মৃদুল দাস। স্থানীয়রা জানান, বড় ভাইয়ের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মৃদুল দাস সরকারী খালের একাংশ দখল করে গত কয়েকদিন থেকে পাকা দোকান ঘর নির্মান করছেন।

MAXZIONIT