মিরসরাইয়ের কলা গাছ রোপন করে সেই সুড়ঙ্গ বন্ধ

0
247
মিরসরাইয়ের কলা গাছ রোপন করে সেই সুড়ঙ্গ বন্ধ
মিরসরাইয়ের কলা গাছ রোপন করে সেই সুড়ঙ্গ বন্ধ

মিরসরাইয়ের কলা গাছ রোপন করে সেই সুড়ঙ্গ বন্ধ

মোহাম্মদ আবু নাছের,চট্টগ্রামঃ মিরসরাইয়ের দুই নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ইসলামপুরের ডুল্লাছড়ি এলাকায় সন্ধান পাওয়া সেই সুড়ঙ্গটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে সুড়ঙ্গটির মুখে মাটি দিয়ে ভরাট করে কলাগাছ রোপন করে দেওয়া হয়েছে। সুড়ঙ্গটি বন্যপ্রাণী কিংবা মাটি কাটার লোকজনের দ্বারা সৃষ্ট বলে ধারণা করছেন পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন থেকে এই সুড়ঙ্গ দেখে আসলে মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে উৎসুক জনতার ভীড় লক্ষ্য করা যায় সুড়ঙ্গটিকে ঘিরে। জনবসতি শূন্য এলাকায় কে বা কারা এই সুড়ঙ্গটি খুঁড়েছে তার সঠিক কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও ভিন্নভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। করেরহাট-বারইয়ারহাট সড়কের করেরহাট ইউনিয়নের আকবরনগর আবাসন সড়ক পথে দেড় কিলোমিটার যাওয়ার পর বাকীপথ জমির আইল, পাহাড়ী ছড়া, উঁচুনিচু পাহাড় হয়ে পাঁয়ে হেঁটে প্রায় ৫ কিলোমিটার গেলেই সুড়ঙ্গের অবস্থান। সুড়ঙ্গটির প্রায় ২ কিলোমিটারের মধ্যে কোন জনবসতি নেই; রয়েছে পাহাড় আর ফসলী জমি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধান পাওয়া সুড়ঙ্গটির আধকিলোমিটারের মধ্যে ফসলী জমি নেই, তবে ন্যাড়া কিছু পাহাড় রয়েছে। সুড়ঙ্গের সন্ধান যে পাহাড়ে মিলেছে তার পূর্ব পাশের পাহাড় ছিল ঝোঁপঝাঁড়ে পরিপূর্ণ তাই কদিন আগেও অলিনগর বনবিটের আওতায় থাকা ড়ুল্লাছড়ির পাহাড়গুলোতে সম্প্রতি সরকারের বনবিভাগ নতুন বনায়নের জন্যে পরিস্কারের কাজ শুরু করলে এখানকার পাহাড়গুলো ন্যাড়া হয়ে পড়ে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জঙ্গল পরিস্কারের কাজ করতে গিয়ে বিশেষ কায়দায় খোঁড়া সুড়ঙ্গটি দেখতে পান স্থানীয় দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের বাসিন্দা মনজুর আলম। এরপর থেকে লোকমুখে খবরটি জানাজানি হতে থাকে চর্তুদিকে।

করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগরের স্থানীয় যুবক মনজুর হোসেন বিবিসিনিউজ২৪কে জানান, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে ড়–ল্লাছড়ি পাহাড়ে আগাছা পরিষ্কার করার সময় সুড়ঙ্গটি প্রথমে দেখতে পাই। আমি ভেতরে প্রায় ২০ ফুটের মতো প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছি। সুড়ঙ্গটির আর ভেতরে যেতে পারছিলাম না; ভেতরে অন্ধকার, পথটা সুরু এবং আঁকাবাঁকা। তবে এই এলাকায় মানুষের চলাচল ছিল না।সুড়ঙ্গের ভেতর প্রবেশ করেন দক্ষিন অলিনগর গ্রামের অপর যুবক ইলিয়াছ শরীফ।

তিনি জানান, সুড়ঙ্গের বিষয়ে তিনি সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) লোকমুখে জানতে পারেন। সুড়ঙ্গটির ভেতরে প্রায় ৩০ ফুটের মতো তিনি গিয়েছেন। তবে সুড়ঙ্গটি কত ফুট দৈর্ঘ্যরে তার শেষ পর্যন্ত কোনভাবে যাওয়া যাচ্ছে না। তবে ১০ ফুট পরপর প্রায় ৬-৭ জন লোক বসার মতো জায়গা রয়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতরের পথ সঙ্কুচিত হওয়ায় আরো ভেতরে যাওয়ার জন্য নিচের মাটি সরালে কয়লা দেখতে পাই, তবে সুড়ঙ্গের উপরের অংশ কালো হয়ে আছে।হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন সুড়ঙ্গের বিষয়ে শুনেছেন, তবে তিনি এই বিষয়ে কোন তথ্য জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, ওই এলাকায় জন চলাচল নেই।

একই বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, ‘সুড়ঙ্গটি প্রায় ১০ ফুট লম্বার। তবে এখানে মানুষ প্রবেশ করতে পারলেও বের হবার কোনো জায়গা নেই। তাই আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটা কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে কেউ করেনি।’