মওলা হোসাইনের পক্ষে, নাকি মালাউন ইয়াজিদের পক্ষে?

0
327
মওলা হোসাইনের পক্ষে, নাকি মালাউন ইয়াজিদের পক্ষে?
মওলা হোসাইনের পক্ষে, নাকি মালাউন ইয়াজিদের পক্ষে?

আপনি কোন পক্ষে?

মওলা হোসাইনের পক্ষে, নাকি মালাউন ইয়াজিদের পক্ষে?

                                                         – আবছার তৈয়বী

ইসলাম আজ মৌলিক ভাবে দু’ভাগে বিভক্ত। আমরা যতোই ‘এক ইসলাম’… ‘এক ইসলাম’ জপ করতে করতে মুখে ফেনা তুলি না কেন- ‘ইসলাম’ এক হবে না। কুখ্যাত ইহুদীদের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে ইসলামের প্রাথমিক যুগেই (সাহাবাদের যুগে) ইসলাম ভাগ হয়ে গেছে। ৬১ হিজরীতে এসে আক্ষরিক অর্থে, বাস্তবিক ও পরিষ্কার ভাবে ‘ইসলাম’ দু’ভাগ হয়ে গেছে। ১. হোসাইনী ইসলাম ২. ইয়াজিদী ইসলাম। আমি হোসাইনী ইসলামের পক্ষে। আপনি?
যারা ইয়াযিদী ইসলামের ধারক-বাহক, তারাও কিন্তু নবীর (দরুদ) কলেমা পড়ে। সুন্দর করে কোরআন তিলাওয়াত করে। নামায পড়ে। রোযা রাখে। যাকাত দেয়। হজ্ব করে। ইসলামের যাবতীয় আরকান-আহকাম পালন করে। তাদের মুখে লম্বা দাঁড়িও আছে। লম্বা কুর্তাও আছে। আছে- সব কিছুই আছে। নাই বলতে কেবল নবীয়ে করিম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাহবিহী ওয়াসাল্লামের মুহাব্বতটা নাই। আর নবীর ‘মুহাব্বত’ এর নামই হলো- ‘ঈমান’। (বোখারী ) তার মানে কী? মানে আপনারা বুঝে নেন।
প্রিয়নবী (দরুদ) কতো কষ্ট করে আল্লাহর ‘দীন’ প্রচার করেছেন। পৃথিবীর কোন লেখক, কবি-সাহিত্যিক এবং ঐতিহাসিকগণ কোন ভাবেই প্রিয় রাসূলের (দরুদ) সেই কষ্ট কোনভাবেই পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারবেন না। সেই অবর্ণনীয় কষ্টের বিনিময়ে নবীয়ে করিম (দরুদ) কিন্ত আমাদের কাছে কোন কিছু চাননি। উম্মতের কাছে তিনি কিছুই দাবি করেন নি। তিনি না চাইলে কী হবে? তাঁর (দরুদ) প্রভু কিন্তু নবীর (দ.) এই কষ্টের বিনিমিয়ে আমাদের কাছে একটা জিনিস চেয়েছেন। কী, আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে খোদ খোদার ভাষায় শুনুন- ‘ক্বুল লা আসআলুকুম আলাইহি আজরান ইল্লাল মাওয়াদ্দাতা ফিল ক্বোরবা।’ অর্থাৎ হে নবী! আপনি মু’মিনদের বলে দিন, আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, শুধুমাত্র আমার নিকটাত্মীয় (আহলে বায়ত)দের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ছাড়া’। আল্লাহর এই প্রত্যাশা, নবীর (দরুদ) এই চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে আমাদের কিন্তু তেমন কিছু ত্যাগ করতে হবে না। শুধু আহলে বায়তে রাসূল (দরুদ)কে অন্তরে ধারণ করতে হবে। ব্যস্- তাহলেই ‘কেল্লা ফতে’।
যাঁদের অন্তরে সেই আহলে বায়তের মুহাব্বত আছে- শুধু হ্যাঁ শুধুই তারাই মু’মিন। বাকিরা? বাকিরা সব নামের মুসলিম। লোক দেখানো মুসলিম। তাদের জিহাদ, তাদের ইবাদাত, তাদের তিলাওয়াত, তাদের আলখেল্লা, তাদের ভালো কাজের কোনই মূল্য নেই আল্লাহ-রাসূলের (দরুদ) কাছে। তাদের বদলা তারা দুনিয়াতেই পেয়ে যাবেন। বিশ্বাস করুন- আখিরাতে তাঁদের কোন কিছুই নেই।

কারণ, তারা নবীর আহলে বায়তকে ভালোবাসে না। তাঁরা আহলে বায়তের প্রোজ্জল ফুল হযরত ইমাম হোসাইন (আলাইহিস সালাম ওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)কে ‘বিদ্রোহী’ মনে করে! ইসলামে খিলাফতের বিদ্রোহের শাস্তি- ‘মৃতুদণ্ড’। তাই তারা মনে করে- ইমাম হোসাইন (আলাইহিস সালাম ওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)কে ‘কতল’ করে আহলে বায়তে রাসূলের ৭২ জন অসহায় সদস্যকে কুখ্যাত ইয়াযিদ ও তাঁর আজ্ঞাবহ জালিমরা ঠিক কাজটিই করেছে! তাই তারা কুখ্যাত জালিম ইয়াযিদ প্রশস্তিতে তাদের বই-পুস্তক সব ভরে ফেলেছে। তাদের সেই বই-পুস্তকগুলো পড়লে আপনি মনে করবেন- ইয়াযিদের চেয়ে ভালো মানুষ পৃথিবীতে আর একটিও নেই!
তারা মওলা হোসাইনের (আলাইহিস সালাম ওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) জন্য একটি বই দূরে থাক, একটি বাক্যও বলে না। বাক্য দূরে থাক, একটি শব্দও বলে না। আপনি দেখে থাকবেন- যদি তারা কখনও মুখ খোলে- সেই ঘোমটাওয়ালা ‘মৌ-লোভী’গুলো হোসাইনের (আলাইহিস সালাম ওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) নিন্দাবাদে মুখ খোলে! আপনি দেখবেন- তারা তাদের মাদ্রাসায়, মসজিদে, সভায়, সেমিনারে কোথাও হযরত মওলা ইমাম হোসাইন। আলাইহিস সালাম ওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)সহ আহলে বায়তে রাসূলের (দরুদ) কোন কথা বলে না। একদিনের জন্য নয়, একঘন্টার জন্যও না। এক ঘন্টার জন্য নয়, এক মুহূর্তের জন্যও না। বিশ্বাস না হলে- আপনি নিজেই খুঁজে দেখুন। আপনাকে ‘কিয়ামত’ পর্যন্ত সময় দিলাম।
তো নিজের জন্য আপনি সবকিছু ১নং বেছে নিতে পারলে, ভেজালের সয়লাব থেকে খাঁটি জিনিসটা বেঁচে নিতে পারলে- খাঁটি ‘ইসলাম’ কেন বেঁচে নিতে পারবেন না। পাররেন, পারবেন। যে মন-মানসিকতা ও দরদ দিয়ে আপনি নিজের জন্য অন্য জিনিসগুলো খুঁজে খুঁজে ভালোটি বের করে নেন, ঠিক সেই মন-মানসিকতা ও দরদ নিয়ে, অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে একবার খুঁজে দেখুন। মধ্যাহৃ সূর্যের মতো ‘হোসাইনী ইসলাম’ আপনার মনের আঙিনায় প্রতিভাত হবে। এবার সেই ইসলামের আলোয় বাকি পথটা আপনি নিজেই চলুন। কোন বাদানুবাদ আর ঝগড়াঝাটির দরকার নেই তো! আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিন- আপনি কোন পক্ষে থাকবেন। মওলা হোসাইনের আলাইহিস সালাম ওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) পক্ষে নাকি মলঊন ইয়াজিদের পক্ষে?

আবছার তৈয়বী: প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক,‘উজ্জীবন’ সাংস্কৃৃতিক সংস্থা (উসাস)।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি- প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস)- দুবাই, ইউ.এ.ই।
প্রতিষ্ঠাতা: আদর্শ লিখক ফোরাম (আলিফ), চট্টগ্রাম।
নির্বাহী সদস্য: আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন, ইউ.এ.ই কেন্দ্রীয় পরিষদ, আবুধাবি, ইউ.এ.ই।