বেহাল বিএনপি, প্রানচাঞ্চল্যে আওয়ামী লীগ!

0
105
বেহাল বিএনপি, প্রানচাঞ্চল্যে আওয়ামী লীগ BBCNEWS24
বেহাল বিএনপি, প্রানচাঞ্চল্যে আওয়ামী লীগ BBCNEWS24

বেহাল বিএনপি, প্রানচাঞ্চল্যে

আওয়ামী লীগ

মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি, বরিশাল:- আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল-৩ আসন (সংসদীয় ১২১ ) নিয়ে স্থানীয়ভাবে চলছে নানা আলোচনা। প্রধান দুইদল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি এরইমধ্যে মাঠে নেমে পরেছে। বসে নেই জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টির সম্ভ্রাব্য প্রার্থীরা। তবে শেষ পর্যন্ত জোট-মহাজোট না এককভাবে রাজনৈতিক মেরুকরণ হবে সেই দিকেই নজর সবার। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৃনমুলে মাঠ চষে বেড়ানোর ব্যস্ততা ততই বেড়ে যাচ্ছে। ব্যতিক্রম ঘটেনি দখিনের অন্যতম জনপদ, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, আড়িয়াল খা ও জয়ন্তী নদীবেষ্টিত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) নির্বাচনি এলাকায়।

উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ছিল বরিশাল-৩ আসন নির্বাচনি এলাকা। বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে সীমানা পূননির্ধারন করে বাবুগঞ্জের সাথে মুলাদী যুক্ত করে বরিশাল-৩ আসন গঠন করা হয়েছিলো। তখন মুলাদী ছিল বরিশাল-৪ আসনের অন্তরভ্ক্তু। এদিকে সেলিমা রহমানের বাড়ি বাবুগঞ্জ এবং মোশারফ হোসেন মঙ্গু ও জয়নুল আবেদীনের বাড়ি মুলাদী হওয়ায় বর্তমান বরিশাল-৩ আসনটি বিএনপির অন্যতম দূর্গ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আসনটিতে রয়েছে বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী। তবে অভ্যন্তরীন কোন্দলে বেহাল বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো।

দলীয় মনোনয়ন পেতে ক্রমেই কোন্দল বাড়াচ্ছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দুই হেভিওয়েট প্রার্থী সেলিমা রহমান ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, দুই নেতাই দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে সেলিমা রহমান দলের মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। ফলাফলে, দু’জনেই পরাজিত হয়েছিলেন। অন্যদিকে দুই মেয়াদে বর্তমানের দল ক্ষমতায় থাকায় এই আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিগত দুই সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী মহাজোটের মনোনয়ন নিয়ে এই আসনে জয়ী হয়েছেন। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বিজয়ের হাসি হাসতে চায় বাংলাদেশের শক্তিশালী দল আওয়ামী লীগ।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তালিকার অগ্রভাগে রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব সিরাজউদ্দিন আহমেদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার মোঃ খালেদ হোসেন স্বপন ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান । তবে জোটভূক্ত নির্বাচন হলে এ আসনে ১৪ দল থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী বর্তমান এমপি জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারী আতিকুর রহমান আতিক। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গু।

এদের মধ্যে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার মোঃ খালেদ হোসেন স্বপন ঐ এলাকার আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী করতে দিনরাত মাঠ পর্যায়ে কাজ করায়, দলের তৃনমূল নেতাকর্মী কাছে প্রাণের ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তাই বাবুগঞ্জ আওয়ামী লীগ দলীয় নের্তৃবৃন্দ ও এলাকাবাসি সরদার মোঃ খালেদ হোসেন স্বপনকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে বিএনপির ‘ঘাটি’ বলে পরিচিত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে, সৃষ্টি হতে যাচ্ছে কোন্দলের সুর।

এ আসনে দলটির দুই ওজনদার নেতা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তবে দুজনের বাড়ি দুই উপজেলায় হওয়ায় প্রার্থীতা নিয়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে স্থানীয় বিএনপি। একজন বিএনপির চেয়ারপারসনের আস্থাভাজন ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিমা রহমান। অন্যজন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি এলাকাতে পরিচিতি রয়েছে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের। তিনি এর আগে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে দুই মেয়াদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছিলেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়নুল আবেদীন স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় বিএনপির প্রার্থী সেলিমা রহমানের নিশ্চিত বিজয় হাতছাড়া হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হয়। ২০০১ সালেও দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন জয়নুল। তবে সেবার বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মঙ্গু অল্প ব্যবধানে বিজয়ী হন। সেলিমা রহমানের বাড়ি বাবুগঞ্জে হওয়ায় ওই খানকার নেতারা চায় তাকে প্রার্থী করা হোক। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি এলাকায় জনসংযোগ করে চলেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এতে করে এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে । আগামী নির্বাচনে পুরনোদের পাশাপাশি নতুনরাও মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।