বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চিন্তিত আর্জেন্টিনা

0
233
বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চিন্তিত আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চিন্তিত আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চিন্তিত আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্কঃ লাতিন আমেরিকা বাছাইপর্ব অঞ্চল থেকে টেবিলের শীর্ষ চার দল সরাসরি খেলবে ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে—এই বাক্যটা লিখে লিখে পৃথিবীর সব ফুটবল সাংবাদিকের যে ক্লান্ত হওয়ার জোগাড়, তার অবদান আর্জেন্টিনার। চারের ওপাশে যে নিজেদের নিয়েই যেতে পারছে না তারা। আজ সহজতম সুযোগ পেয়েও আর্জেন্টিনা পারল না। এমনকি চিলির অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের সুখবর আর ব্রাজিলের সঙ্গে কলম্বিয়ার ড্রও তাদের উজ্জীবিত করতে পারেনি। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নিজেদের মাঠে ১-১ ড্র করে মাঠ ছেড়েছে।

হাতে আর মাত্র দুই ম্যাচ রেখে আর্জেন্টিনা এখনো জায়গা করে নিতে পারেনি নিরাপদ চারে। অক্টোবরে শেষ দুই রাউন্ডেই তাই নির্ধারিত হবে হোর্হে সাম্পাওলির দলের ভাগ্য। বাছাইপর্বে এটা তাদের টানা দ্বিতীয় ড্র। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এখনো জয়ের দেখা পেলেন না অনেক আশা জাগিয়ে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেওয়া সাম্পাওলি। টানা তিন ম্যাচের জয়খরা আর্জেন্টিনাকে ঠেলে দিল খাদের কিনারে!

বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ জয় গত মার্চে চিলির বিপক্ষে। এরপর বলিভিয়ার মাঠে হারের পর উরুগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে সাম্পাওলির দল। টেবিলের আরেক তলানির দল বলিভিয়া নিজেদের মাঠে টানা দুবারের কোপা চ্যাম্পিয়ন চিলিকে হারিয়ে দেওয়ায় আর্জেন্টিনার জন্য বড় সুযোগ চলে আসে। কিন্তু জিতবে কীভাবে, আর্জেন্টিনা তো গোল করতেই ভুলে গেছে!

গত মার্চে চিলির বিপক্ষে সেই ম্যাচে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু তারপর থেকে টানা তিন ম্যাচে আর্জেন্টিনার তারকাখচিত আক্রমণভাগ কোনো গোল করতে পারেনি। এমনকি ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে গোলটিও ‘আত্মঘাতী’ উপহার!

জয়ের খোঁজে মরিয়া সাম্পাওলির আক্রমণভাগে শুরু থেকেই ছিলেন লিওনেল মেসি, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, ইকার্দি ও পাওলো দিবালার মতো পরীক্ষিত তারকারা। তাঁদের বল জোগাতে মাঝমাঠে ছিলেন এভার বানেগা। আর্জেন্টিনা অবশ্য প্রথমার্ধে তিনটি দারুণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বঞ্চিত করেছেন তরুণ গোলরক্ষক ফারিনেজ। চতুর্থ মিনিটে মাসচেরানোর দারুণ পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন ইকার্দি। কিন্তু ফারিনেজের পা ঠেকিয়ে দেয় বল। ইকার্দিকে আরও একবার বঞ্চিত করেছেন ফারিনেজ। এবার দারুণ ক্রস ছিল ডি মারিয়ার।

বাঁ প্রান্তে দুর্দান্ত খেলতে থাকা ডি মারিয়া প্রথমার্ধেই মাঠ ছেড়ে উঠে যেতে বাধ্য হন পায়ের পেশিতে টান পড়ায়। এবার মেসি নেন ভূমিকা। কিন্তু বক্সের সামান্য বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর আগুনে শট ডানে পুরোটা ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ফারিনেজ। গোলশূন্য প্রথমার্ধের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণের ধার বেড়ে যায় স্বাগতিকদের। কিন্তু ছয় মিনিটের মধ্যেই খেলার ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বসেন মেসিরা। আর্জেন্টিনার আক্রমণ থেকে বল পেয়ে পাল্টা আক্রমণে গিয়েছিল ভেনেজুয়েলা। সামনে এগিয়ে আসা আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক রোমেরোর মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি স্তব্ধ করে দেন ভেনেজুয়েলা উইঙ্গার জন মুরিল্লো।

চার মিনিট পরই ভেনেজুয়েলা ডিফেন্ডার রফল ফেলশারের ‘আত্মঘাতী’ গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ডি মারিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামা আকুনিয়া বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রস বাড়ান বক্সে। ইকার্দির ভলি ‘ক্লিয়ার’ করতে গিয়ে ফেলশার বল জড়ান নিজেদের জালে। আর্জেন্টিনার সামনে তখনো ছিল ৪০ মিনিট। কিন্তু জয়সূচক গোলের দেখা আর পেলেন না মেসিরা।

এ ম্যাচেও সতীর্থদের সঙ্গে মেসির বোঝাপড়া হয়নি। ডিবালা বক্সের বাইরে থেকে তাঁর ট্রেডমার্ক আচমকা একটি শট নিয়েছিলেন। সেটিও ফাঁকি দিতে পারেনি ফারিনেজকে। এ ছাড়া ডিবালাও বলার মতো কিছু করেননি। হিগুয়েন-আগুয়েরোদের ছেঁটে ফেলার সার্থকতা প্রমাণে এখনো জ্বলে উঠতে পারেননি অনেক অপেক্ষা শেষে দলে জায়গা করে নেওয়া ইকার্দিও। যদিও তাঁর একটি পেনাল্টির জোরালো আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রেফারি।

আর তাতেই এরই মধ্যে ২০২২ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তরুণ দলকে বাছাইপর্বে নামিয়ে দেওয়া ভেনেজুয়েলা জয়ের সমান ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে।১৬ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচে পড়ে থাকল আর্জেন্টিনা। ইকুয়েডরকে ২-১ গোল হারিয়ে চিলির ছেড়ে দেওয়া চার নম্বর জায়গাটি নিজেদের করে নিল পেরু। তাদেরও সমান ২৪ পয়েন্ট।

শেষ দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ এই পেরুই। আছে ইকুয়েডরও। রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট পেতে এ দুটি ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই আর্জেন্টিনার।