বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার প্রাচীণ কৃষিযন্ত্র দোংগা

0
272
বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার প্রাচীণ কৃষিযন্ত্র দোংগা - BBCNEWS24
বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার প্রাচীণ কৃষিযন্ত্র দোংগা - BBCNEWS24

বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার

প্রাচীণ কৃষিযন্ত্র দোংগা

মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি, বরিশাল: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতায় প্রতিটি শাখায় আধুনিকায়নের ফলে যন্ত্র সভ্যতার যাঁতাকলে বরিশালের গ্রামঞ্চল থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন কৃষিযন্ত্র দোন কিংবা সেঁউতি (স্থানীয় ভাষায় দোংগা)। আগেকার দিনে জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা হতো টিন বা বাঁশের তৈরি দোংগা।

এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষিতে সেচযন্ত্র হিসেবে টিন বা বাঁশের তৈরি দোংগার ব্যাপক চাহিদা ছিলো। টিন বা বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি দোংগা দিয়ে খাল বা নিচু জমি হতে উপরে পানি সেচ সিঞ্চন করা হতো। আর উচু নিচু জমিতে পানি সেচ দিতে সেচযন্ত্র কাঠের দোংগা ছিল অতুলনীয়। গ্রামবাংলার কৃষকরা আদিকাল থেকেই চিন্তা চেতনার ফসল হিসেবে আবিস্কার করেছিল এ কাঠের দোংগা।

আম, কাঁঠাল জাতীয় গাছের কাঠের মাঝের অংশের কাঠ কেটে নিয়ে তার মাঝখানের কাঠের ড্রেন তৈরি করে পানি সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে করে পানি সেচ দিতে শ্রমিক ছাড়া কোন প্রকার খরচ হয়না। তাছাড়া এটি সহজে বহনীয়। দোংগায় সেচ দেওয়া খুব মজার কাজ। একটি বাঁশের শক্ত খুঁটি মাটিতে পুঁতে তার সাথে লম্বা অন্য একটি বাঁশ বেঁধে এক অংশে দোংগার মাথা অন্য অংশে মাটির ভরা (ওজন) তুলে দিয়ে পানিতে চুবিয়ে তুললে এক সাথে অনেক পানি উঠে আসে। এভাবে অনবরত পানি সেচ দিলে দ্রুত সেচের কাজ হয়।

আগৈলঝাড়া উপজেলার কলেজ ছাত্র মিঠু বিশ্বাস জানায়, সে কখনও দোংগা দেখেনি। তবে বই পড়ে জানতে পেরেছে এসব কৃষি কাজে ব্যবহার করা হতো। রাজিহার গ্রামের তপন বসু (৪২) জানান, আমি বাপ-দাদাদের দোংগা ব্যবহার করে সেচকাজ করতে দেখেছি। এজন্য শখের বশে একটি দোংগা তৈরি করে তা দিয়ে পানি সেচ দিয়েছি। প্রবীণ ব্যক্তি ইদ্রিস আলী মৃধা (৮৫) বলেন, আগে আমরা দোংগা দিয়েই সেচকার্য চালাতাম। এখন আধুনিক অনেক যন্ত্রপাতি আসায় এগুলোর ব্যবহার হয়না।