বিদ্যুতের দাম বৃ্দ্ধি না করে, কমাতে বললেন ভোক্তারা

0
289
বিদ্যুতের দাম বৃ্দ্ধি না করে, কমাতে বললেন ভোক্তারা
বিদ্যুতের দাম বৃ্দ্ধি না করে, কমাতে বললেন ভোক্তারা

বিদ্যুতের দাম বৃ্দ্ধি না করে, কমাতে বললেন ভোক্তারা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,  বিবিসিনিউজ২৪: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতির ফলে লোকসানের দায় জনগণের ঘাড়ে চাপাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উল্টো দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে ভোক্তা সংগঠন ও বাম দলগুলোর নেতারা এ দাবি জানান।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে প্রতি ইউনিটে ৭২ পয়সা ঘাটতি হয়েছে উল্লেখ করে পাইকাররি পর্যায়ে ততটুকু দাম বাড়ানোর বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি)।

এতে বলা হয়, পাইকারিতে প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য ৪ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও পাইকারিতে পিডিবির সরবরাহ ব্যয় ছিল প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৫৯ পয়সা। সে হিসেবে ইউনিট প্রতি লোকসান হচ্ছে ৭২ পয়সা।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে পাইকারি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭২ পয়সা (প্রায় ১৫ শতাংশ) বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি। স্বাভাবিকভাবেই এই দাম বৃদ্ধির চাপ ভোক্তার উপরও পড়বে।

দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে গাইবান্ধা সেচ মালিক সভাপতি মাহমুদুর রহমান বলেন, পিডিবির কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি (পিডিবি) লোকসান গুনে। সেই দায়ভার এখন জনগণের ওপর চাপানোর জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সাল থেকে এপর্যন্ত পাইকারি পর্যায়ে ৫ বার এবং খুচরা পর্যায়ে ৭ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ বাড়ানো হয় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে।পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ বিইআরসি নিলেও সোমবার শুনানি হয় কেবল পাইকারি বিদ্যুৎ নিয়ে।শুনানিতে অংশ নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রায় একঘণ্টা পিডিবির কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

আয়-ব্যয় সমন্বয়ের জন্য দাম না বাড়িয়ে বরং এক পয়সা থেকে ৬ পয়সা পর্যন্ত দাম কমানো যেতে পারে বলে তিনি হিসাব দেখান।সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “মূল্য বৃদ্ধি নয়, বরং কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে গণশুনানি করুন। হাওরে অসময়ে জলাবদ্ধতা, দেশব্যাপী বন্যা এবং সর্বশেষ রোহিঙ্গা সমস্যায় দেশ ও দেশের মানুষ জর্জরিত। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তার প্রভাব পড়বে সর্বত্র। দেখা যায় বিদ্যুতের দাম বাড়লো ৩০ টাকা, কিন্তু বাড়ি ভাড়া বাড়ে ৩০০ টাকা। তাই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “বিদ্যুতের দাম বাড়ানেরা কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ক্যাব যুক্তি-তর্ক করে সবার সামনে সেটি দেখাতে সক্ষম হয়েছে।”

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের উপদেষ্টা সম্পাদক সালেক সুফি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেবুন্নেসা শুনানিতে অংশ নিয়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিপিডিবি ও বিইআরসির কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন। একই বিষয়ের ওপর মঙ্গলবার আবার শুনানি হবে।