পঞ্চগড়ে বিয়ের প্রলভোনে ধর্ষন, স্কুল ছাত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্তা!

0
49
পঞ্চগড়ে বিয়ের প্রলভোনে ধর্ষন, স্কুল ছাত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্তা BBCNEWS24
পঞ্চগড়ে বিয়ের প্রলভোনে ধর্ষন, স্কুল ছাত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্তা BBCNEWS24

পঞ্চগড়ে বিয়ের প্রলভোনে ধর্ষন

স্কুল ছাত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্তা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে অসহায় স্কুল ছাত্রী ধর্ষকের বিচার চেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে গিয়েও সমাধান না পেয়ে অবশেষে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছে তার পরিবার। মঙ্গলবার ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী মো. সোহেল (২২) সহ চার জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন।

আসামিরা হলেন- তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. সোহেল (২২), তার বড় ভাই মো. জুয়েল (২৭), তাদের বাবা সপিকুল ইসলাম ওরফে খুদুত এবং ওই এলাকার মিয়া হোসেনের ছেলে মো. আহাবদ আলী (৩২)। আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আবু মনসুর মো. জিয়াউল হক মামলাটি এজাহার হিসেবে আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে একই এলাকার মো. সপিকুল ইসলাম ওরফে খুদুতের ছেলে মো. সোহেল প্রেমের প্রস্তাব দেয়।

২০১৭ সালের ৪ মে সোহেল ওই স্কুলছাত্রীকে তার বাড়িতে নিয়ে অপরিচিত দুইজন ব্যক্তির সহযোগিতায় কৌশলে বিয়ের কালিমা পড়ায়। এরপর তাদের বিয়ে হয়েছে বলে ওই কিশোরীকে জানায়। অপরিচিত দুই ব্যক্তি চলে যাওয়ার পর সোহেল তার সঙ্গে জোড়পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে। সেইসঙ্গে কিছু দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নেবে এমন আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়। সোহেল তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেবে বলেও কালক্ষেপণ করতে থাকে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহেল ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তাকে বাড়িতে না তোলার কথা বলে চলে যায়। সেই সঙ্গে বলে যায়, তাদের ওই বিয়ে ছিল মিথ্যা।

এ কথা শুনে কিশোরী কান্নাকাটি শুরু করে। পরে ভিকটিমের বাবা-মা বাড়িতে এসে অবস্থা দেখে তাকে নিয়ে সোহেলের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। এতে সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরী ও তার বাবাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরীকে ঘরে তোলার কথা জানায় সোহেল ও তার পরিবারকে। কিন্তু তারা তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। অবশেষে উপায় না পেয়ে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া থানায় মামলা করতে গেলে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেন। নাম প্রকাশ করতে অননিচ্ছুক স্থানিয় একাধিক ব্যাক্তি জানান অন্তঃসত্ত্বা স্কুল ছাত্রীর চরিত্র ভালোনা এ কারনে তাকে উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণী হতে টিসি নিতে হয়েছে। এবং এলাকায় তার অনেক বিচার সালিশ হয়েছে।মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনিছুর রহমান বলেন, সোহেলসহ চারজন কে আসামি করে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করা হয়।