“তমালের সাথে অ্যানির প্রতারণা প্রেম” থাপ্পড়ের জবাবে এসিড!

0
59
“তমালের সাথে অ্যানির প্রতারণা প্রেম
“তমালের সাথে অ্যানির প্রতারণা প্রেম" থাপ্পড়ের জবাবে এসিড! BBCNEWS24

“তমালের সাথে অ্যানির প্রতারণা প্রেম”

থাপ্পড়ের জবাবে এসিড!

বিবিসিনিউজ২৪,ডেস্কঃ তমালের সঙ্গে নয় মাস প্রেম করার পর অ্যানি জানায় কয়েক মাস আগেই বিয়ে হয়েছে তার। প্রেমিকার এমন জবাবে উত্তেজিত তমাল থাপ্পড় দেয় অ্যানিকে। আর ওই থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে তমালের মুখে এসিড ছুঁড়ে মারে অ্যানি স্বামী সুমিত ও তার সহযোগীরা!

প্রেমের এমন পরিণতি কেউই প্রত্যাশা করে না। কিন্তু এমনটাই ঘটেছে চট্টগ্রামের ছেলে তমালের সঙ্গে। দু’চোখ হারিয়ে আজ সব-হারা তমাল। ভারতে চিকিৎসা করিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি তার পরিবার।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে কথা হচ্ছিল তমালের সঙ্গে। শুক্রবার রাতে রাজধানী থেকে ঘাতক সুমিত ধর (৩০) ও মমিতা দত্ত অ্যানি (২৬) ধরা পড়ার খবরে সিএমপি কার্যালয়ে ছুটে আসেন তমাল ও তার পরিবার।

তমাল বলেন, ‘ঘটনার শুরু ২০১৫ সালের মার্চ মাসে। আমার বড় চাচার মেয়ের বিয়েতে পরিচয় হয় অ্যানির সঙ্গে। পরে কথা বলা, ঘুরতে যাওয়া। এর মাঝেই ঘটে মন দেয়া নেওয়া। চারমাস ভালোই কাটে আমাদের। বেশ খরচ করি তার পেছনে। হঠাৎ একদিন জরুরী তলব এলো অ্যানি কাছ থেকে। দেখা করতে চায়। গেলাম, এটা-ওটা বলার পর অ্যানি জানালো, “অন্য আরেক ছেলের সঙ্গে গত পাঁচ বছর ধরে প্রেম করে আসছে সে। সেপ্টেম্বরে বিয়ে হয়েছে তাদের।”

‘অ্যানির এমন অপ্রত্যাশিত জবাবে মেজাজ হারিয়ে বসি আমি। ওকে একটা থাপ্পড় মেরে বলি, “আরেক জনের সঙ্গে তোমার প্রেম, তবে আমার জীবন কেন নষ্ট করলে?”। জবাবে অ্যানি হুমকি দিয়ে বলে, এ থাপ্পড়ের জবাব সে দিবে। এই ঘটনার দেড় বছর পর অ্যানির স্বামী সুমিতের নেতৃত্বে আমার উপর এসিড হামলার ঘটনা ঘটে।’ বলেন তমাল।

২০১৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারীর সন্ধ্যায় নগরীর কোতয়ালী থানার গুডস হিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তমাল বলেন, ‘অ্যানিকে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। এর আগে ২০১৬ সালের শেষের দিকে ‘প্রজাপতির ডানা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে আমার কাছে রিকোয়েস্ট আসে। আমি রিকোয়েস্টটি একসেপ্ট করি। পরে তার সঙ্গে চ্যাটিংয়ে কথা হয়। জানায় সে কলকাতা থেকে বলছে। এভাবেই দু’মাস যাওয়ার পর ওই আইডি থেকে জানানো হয়, তার কাকার সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছে সে। দেখা করবে।’

তমাল বলেন, ‘ফেসবুকেই নির্ধারিত হয় আমরা গুডস হিলের সামনে দেখা করবো। আমি সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকায় পৌছাই। তখন দেখি দু’জন যুবক বেশ বড়বড় চোখ করে আমাকে লক্ষ করছে। এদিকে আমি অপেক্ষা করছিলাম ‘প্রজাপতির ডানার’। এরই মধ্যে তিন-চার মিনিট পর হঠাৎ ওই যুবকরা আমার মুখে এসিড ছুঁড়ে মারে। তখন আমি কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। সারা মুখ খুব বেশি জ্বলছিলো। এর মাঝে একজনকে একটু আবছা আবছা চিনতে পারি। সে সুমিত। অ্যানির স্বামী।’

তমাল আরো বলেন, ‘আমি অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে যখন পানি পানি চিৎকার করছিলাম তখন একজন যুবক বলছিল, “অ্যানির সাথে প্রেম করার মজা দেখ।”নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘এ মামলাটি আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের ছিলো। বেশ চালাক এই সুমিত ও তার সহযোগীরা। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তাদের গ্রেফতার করা গেছে, রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ‘গত বছরের এপ্রিলে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আসে মামলাটি। কিন্তু কোনোভাবেই এ দু’জনকে ট্রেস করা যাচ্ছিল না। শেষে গিয়ে খুব দুর্বল একটি সুত্র ধরে বেরিয়ে আসে সুমিত ও অ্যানির ঠিকানা।’

সিএমপি কার্যালয়ে তমালের বাবা বাবুল চন্দ্র দে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ ভাসুরের মেয়ের বিয়েতে গেলে তমালের সঙ্গে অ্যানির পরিচয় হয়। তারা তিন-চার মাস একসঙ্গে ঘোরাফেরা করে। কিন্তু তারও পাঁচ বছর আগে থেকে আরেকজনের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তমালের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তমাল রাগের মাথায় তাকে থাপ্পড়ও মেরেছিল। সেই থাপ্পড়ের জবাব তারা দিয়েছে এসিডে! আমি ওই দুই জনের ফাঁসি চাই। যাতে আর কারো সাথে কেও এমনটা করার সাহস না পায়।সূত্র একুশে পত্রিকা