কলারোয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথীবৃন্দ!!

0
59
কলারোয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথীবৃন্দ! BBCNEWS24
কলারোয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথীবৃন্দ! BBCNEWS24

কলারোয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

অনুষ্ঠানে অতিথীবৃন্দ!

ফিরোজ জোয়ার্দ্দার,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪৮তম মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথী বৃন্দকে ফুলের শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেয়া এবং মাথায় বাংলাদেশের মানচিত্র ক্যাপ ও পতাকা গায়ে জড়িয়ে দেয়া হয়। আবার আমন্ত্রিত অতিথীবৃন্দ মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা চত্বরে পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মনিরা পারভীনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্যর পর আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন।

এ সময় তিনি বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে এক বিশ্বয়কর ইতিহাস এই স্বাধীনতা দিবস। যা অর্জিত হয়েছে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে। তাতে সাধারণ কৃষক, ধনী এবং সকল শ্রেণীর মানুষ এক প্রাণ হয়ে রক্ত, জীবন, কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পাক হানাদারদের কবল থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ছিনিয়ে এনেছিল এই বিজয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধের এই ইতিহাস এক সময় হারিয়ে গিয়েছিল। অতিতে মুক্তিযোদ্ধার এই চেতনার কন্ঠকে নির্তেজ করে দেয়া হয়েছিল। যা কালের ইতিহাস ঘুরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হারিয়ে যাওয়া সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

শেখ হাসিনার যোগ্য নের্তৃত্বে আবারও আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনতে হলে মুক্তিযুদ্ধাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দিয়েছে, কিন্তু অভিজ্ঞতা জমা দেয়নি। মুক্তিযোদ্ধারা যে ইতিহাস দেখেছিল সেটি ছিল বর্বরতাপূর্ণ। পাক হানাদাররা অপমান করেছে মুক্তিযোদ্ধার সকল চেতনার কন্ঠকে।
একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে, যারা স্বাধীন করেছে তাদের আমরা বুক ভরা সন্মান করি। আর যারা ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কলঙ্কিত করে চেতনাকে ধ্বংশ করতে চেয়েছিল তাদেরকে নির্মিষেয় শেষ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি তখন ভ্যান চালিয়ে জীবন যাপন করেতো মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা।

মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ওসি বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। আমরা স্বাধীনতাকে কুলসিত করতে দেবো না। যারা স্বাধীনতার বি-পক্ষের শক্তিতে কাজ করে মুক্তিযোদ্ধার সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত করছেন। তারা ভাল হয়ে যান, এখনও সময় আছে। তা না হলে মুক্তিকার্মী তরুন প্রজন্মের যুদ্ধারা আপনাদের বংশ নির্মূল করে ছাড়বে। যদি মুক্তিযোদ্ধাদের কোন অপশক্তি অপমন করে তাহলে আপনারা আমাকে পরামর্শ দেবেন। আমি মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্তান হয়ে কথা দিচ্ছি কখনও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মান নষ্ট হতে দেব না।

মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করে আামদের বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। আর আমরা সেটা তরুন প্রজন্মের মানুষের কাছে সঠিকভাবে বিবেক জাগ্রত করবো। তরুনরা সবাই জানুক কিভাবে দেশ থেকে শত্রুমুক্ত করলো আমার দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা।এছাড়া তিনি আরোও বলেন, আজ ৪৮তম মহান স্বাধীনতা দিবসে সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ ছাত্রীরা এসেছেন তাদের বলবো আপনারা সকল অপশক্তির হাত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরুন।

তাই সকলে একযোগে মুক্তিযোদ্ধার চেতনাকে জাগ্রত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার লক্ষে কাজ করে যেতে হবে। যারা ছাত্র/ ছাত্রীদের এই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন তাদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ। কেন মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের ছাত্র/ ছাত্রীরা আজকে জানতে পারবে না সেটা খুব লজ্বাজনক। তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য আয়োজক কমিটিকে আহবান করেন। আর না পারলে আমাকে বলে দেখেন আমি সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবো এবং নিহত শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ ফারুক হোসেনের পরিচালনায় সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথী হিসেবে বক্তব্য দেন যুদ্ধকালীন কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন, আব্দুল গফ্ফার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব আরাফাত হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, আনোয়ার হোসেন, সৈয়দ আলী গাজী, আবুল হোসেন গাজী, সাবেক অধ্যক্ষ আবু নছর, অধ্যাপক এমএ ফারুক, মহিলা সভানেত্রী অধ্যাপিকা সুরাইয়া ইয়াসমিন রতœা প্রমুখ।

এছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, চেয়ারম্যানগন এসএম মনিরুল ইসলাম, আফজাল হোসেন হাবিল, মাস্টার নূরুল ইসলাম, আবুল কালাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকবার হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা মহাসীন আলী, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা তাহের মাহমুদ সোহাগ, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা এএস এম আতিকুজ্জামানসহ সকল দফতারের কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যগন।
এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চে অতিথীবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধাদের উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।