কলারোয়ায় ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারের দূর্নীতির কারণে স্থানীয়দের চাপের মুখে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্দ পর্ব-১

0
1450
কলারোয়ায় ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারের দূর্নীতির কারণে স্থানীয়দের চাপের মুখে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্দ পর্ব-১ - BBCNEWS24
কলারোয়ায় ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারের দূর্নীতির কারণে স্থানীয়দের চাপের মুখে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্দ পর্ব-১ - BBCNEWS24

স্থানীয়দের চাপের মুখে উন্নয়ন

প্রকল্পের কাজ বন্দ

ফিরোজ জোয়ার্দ্দার,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় লাগামহীন দূর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও উপজেলা প্রৌকশলীর দূর্নীতির কারণে ব্রীজের ভেরীবাঁধ নির্মান ও রাস্তার তৈরির কাজ বন্দ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। আর এ কাজে গাফিলতি করে ঠিকাদারের নাক কাটা গেলেও তাতে কিছু যায় আসে না তার । সবাইকে ম্যানেজ করে সরকারের কাজে কোন লাভ হয় না বলে তিনি এই দূর্নীতির আশ্রয় নেয়। তাছাড়া ঠিকাদারের ভাষ্য রাস্তার কাজ যে ভাবেই হোক তৈরি করে দিবেন কারণ তার মাথায় চাপ আছে।

তবে এলাকাবাসীরা বলেছেন সরকারের সঠিক উন্নয়ন চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরে অভিযুক্ত দূর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও প্রৌকশলী বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। তা না হলে তারা উপজেলা প্রৌকশলী অফিস ঘেরাও করবেন বলে হুশিয়ারী দেয়।

সরেজমিনে অভিযুক্ত রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের ইউনিয়ন অবকাঠামো উন্নয়ন (য়ুআইডিপি) প্রকল্পের ৩৪লাখ ৭৪ হাজার টাকার রাস্তা তৈরি ও ভেরীবাঁধ নির্মানের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাজী রফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে প্রকল্পটি হেলাতলা ব্রীজের কুশোডাঙ্গা উত্তর মাথা হতে ২’শত ফুট ভেরীবাঁধ ব্রীজের নতুন রাস্তা তৈরি ও ভেরীবাঁধে মাটি দিয়ে উচু করে মজবুত করা। এবং অপরদিক থেকে আসা কলারোয়ামুখী ব্রীজের দক্ষিণ মাথা হতে পূর্বদিক ৫’শত ফুট পর্যন্ত অথ্যাৎ ৩১৫৬- হতে ৩৪৮৫ মিটার রাস্তা তৈরির কাজ ঠিকাদার তড়িঘড়ি করে শুরু করেন।

শিডিউল মোতাবেক সেই রাস্তায় কাজ ঠিকাদার মেয়াদকালে শেষ করতে না পেরে আবার কিছু দিন মৌখিক সময় নিয়ে পিঁচের সলিঙ্গে আমা ৩নং ইট দিয়ে নিন্মমানের খ তৈরি করে বিছিয়ে দেয়। কাজের জন্য সাইটে নিন্মমানের ৩নং ইট দিয়ে খ তৈরি করে রাখা আছে। আর ব্রীজের ভেরীবাঁধ পাইলিংয়ে মাটি দিয়ে উঁচু ও মজবুত করার কথা থাকলে ঠিকাদার সেটা না করে অল্পকিছু মাটি দিয়ে ভেরীবাঁধ জমাত বাঁধেন। জমাত বাধা রাস্তা ব্রীজের পাশ থেকে বসে যেতে দেখা যায়। রাস্তায় নিন্মমানের খ ও বালু উপর দিয়ে রুলার চেপে সমান করে দেয়া হলে খ মাটির সাথে মিশে ধুলো হয়ে উড়ে যায়।

সেই রাস্তার কাজ এলাকাবাসীদের নজরে আসলে ঠিকাদার রফিকুলকে বিষয়টি অবগত করেন এবং নিন্মমানের খ দিয়ে রাস্তা তৈরি করতে নিষেধ করেন। কে শোনে কার কথা ঠিকাদার হাজী রফিকুল সেটা তোয়াক্কা না করে আবার রাস্তার কাজ চালিয়ে যায়। এতে এলাকাবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সম্প্রতি লাগামহীন দূর্নীতিবাজ ঠিকাদার হাজী রফিকুলকে কাজের সাইটে পেয়ে ধাওয়া করে। এলাকাবাসীদের তাড়া খেয়ে ঠিকাদার হাজী রফিকুল স্থানীয় এক ইউপি মেম্বারের কাছে আশ্রয় নেন।

কুশোডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আসলামুল আলম খবর পেয়ে ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাম প্রসাদ ও হেলাতলা ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামকে সাথে নিয়ে কাজের সাইটে হাজির হয়। অভিযুক্ত ঠিকাদার হাজী রফিকুলকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে রাখেন ও ঠিকাদারের রাস্তার কাজের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।

এসময় তারা ঠিকাদারের কাজের অনিয়ম ও গাফিলতি আছে উল্লেখ করে বলেন,সরকারে উন্নয়নের চিত্র জনগণের কাছে প্রকাশ করায় হলো মিডিয়ার কাজ। আমরা যারা জন প্রতিনিধিরা আছি তারা জনগণের মঙ্গল বয়ে আসুক সেই চেষ্টায় করবো। যদি ঠিকাদার হাজী রফিকুলের দূর্নীতির জন্য এলজিইডি প্রকল্পের রাস্তার কাজে গাফিলতি করে তাহলে রাস্তার কাজ পুরো দমে বন্দ করে দেয়া হবে। তবে রাস্তার কাজ আপাতত বন্দ। ঠিকাদার যে নিন্মমানের খ ও বালু রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করছে সেটা রাস্তা থেকে পুনারায় তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেন। যদি ঠিকাদার সেটা না করে তাহলে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে চেয়ারম্যান আসলাম ও রাম প্রসাদ দত্ত ঠিকাদারের নিন্মমানের কাজের বিষয়ে উপজেলা প্রৌকশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে বার বার অবগত করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ঠিকাদার হাজী রফিকুলের সাথে আঁতাত করে রাস্তা প্রকল্পের কাজে দূর্নীতি করার সুযোগ করে দেন। আবার নিজেও এই কাজের সহযোগিতায় লোক দেখানো কাজের বিনিময়ে পুকুর চুরি করে সরকারের লক্ষ- লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে দূর্নীতিবাজ ঠিকাদার রফিকুল ও উপজেলা প্রৌকশলী মামুনকে অভিযুক্ত করেন।

এদিকে ঠিকাদার হাজী রফিকুলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কাছ থেকে গচ্ছিত পুরানো ইট কিনে শ্রমিক দিয়ে খ তৈরি করেছে। যদি অফিস নিম্মমানের ইট ১নং বলে বিক্রি করে তাতে ঠিকাদারের কিছু যায় আশে না। দূর্নীতি করলে উপজেলা প্রৌকশলী অফিসের কর্তা করেছে। তাকে মিথ্যা অভিযোগে দোষারোপ করে কাজের ক্ষতি করা হচ্ছে। তিনি সঠিক নিয়মে শিডিউল মোতাবেক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে রাস্তাটি কাজ শেষ প্রান্তে। তাছাড়া রাস্তার কাজের জন্য স্থানীয়রা তার কাছে মোটা অংকের চাঁদার কথা বলে। চাঁদার টাকা না দেয়ায় এলাকাবাসীদের তোপের মুখে পরে সামরিক বন্দ করে দিই।

নিন্মমানের কাজের ব্যাপারে উপজেলা প্রৌকশলীর কাছে জানতে চাইলে প্রতিবেদক অফিসে গিয়ে দেখেন প্রৌকশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন তিনি ঠিকাদার হাজী রফিকুলের সাথে কু-পরামর্শ করছে। কিভাবে দূর্নীতি করে রাস্তার কাজ শেষ করা যায় সেই বিষয়ে খুব চিহ্নিত তারা। আর অফিস ম্যানেজ করে রাস্তার কাজ দূর্নীতি করে শেষ করতে হয় সেই ব্যাপারে ঠিকাদার পাঁকা। আবার তৈরি করা রাস্তা মেয়াদ শেষের আগে সল্পসময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যার তা অতিতে রেকর্ড আছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনের কাছে কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার হাজী রফিকুল ও তার উপজেলা প্রৌকশলী মামুন যদি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গাফিলতি করে দূর্নীতি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নি¤œমানের ইট দিয়ে রাস্তা তৈরি করার কাজ বহুবার কানে শুনেছি। তিনি ঠিকাদারকে ডেকে সতর্ক করে দেন। ঠিকাদার যদি কাজের গাফিলতি করে তাহলে এলাকাবাসী উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিহত করবে বলে জানান।

তবে অভিযুক্ত প্রৌকশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে কাজের বিষয়ে অফিসে কথা হলে অফিসে বসে থাকা ঠিকাদার রফিকুলকে দেখিয়ে দিয়ে দূর্নীতির বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে ঠিকাদার হাজী রফিকুলকে সতর্ক করে স্বচ্ছভাবে কাজ করার জন্য চাপ দেয়।