ওয়েস্ট উইন্ডিজকে নিয়ে ‘বিব্রত’ লারা!

0
132
ওয়েস্ট উইন্ডিজকে নিয়ে ‘বিব্রত’ লারা!
ওয়েস্ট উইন্ডিজকে নিয়ে ‘বিব্রত’ লারা!

ওয়েস্ট উইন্ডিজকে নিয়ে ‘বিব্রত’ লারা!

স্পোর্টস ডেস্কঃ আশির দশকের ওয়েস্ট ইন্ডিজ—শুনলেই ক্রিকেটানুরাগীরা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। আক্ষেপও হয়তো জাগে তাঁদের মনে, ওই সর্বজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ এমন পথ না হারালে আজও হয়তো বিশ্ব ক্রিকেটে দুর্দমনীয় একটা দলই থাকত তাদের। কিন্তু ব্রায়ান লারা ওই দলে নন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তির চোখে, ওই দলটির পর নয়, আসলে দলটা একসঙ্গে জিততে থাকার সময় থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতন শুরু হয়ে গিয়েছিল। আশির দশকের ওই ক্যারিবীয় দলের কিছু কিছু অখেলোয়াড়সুলভ আচরণেও বিব্রত লারা!

কথাগুলো তিনি বলেছেন এ বছরের কলিন কাউড্রে বক্তৃতায়। কিংবদন্তি ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান ও লর্ডসের সাবেক সভাপতি কলিন কাউড্রের সম্মানে প্রতিবছর লর্ডসে এই বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। এবার তাতে অতিথি ছিলেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি। পরশু লর্ডসে তাঁর সেই বক্তৃতায় লারা আশির দশকের ওই কিংবদন্তি দলের অখেলোয়াড়সুলভ কিছু কর্মকাণ্ডে নিজের বিব্রত হওয়ার কথাও বলেন।

‘১৯৮০ থেকে শুরু করে টানা ১৫ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো সিরিজ হারেনি। কিন্তু সেই দাপট শুরু হওয়ার ঠিক আগে (নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজে) কলিন ক্রফট সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি ফ্রেড গুডালের (আম্পায়ার) কাঁধের কিছু অংশ ছিঁড়ে নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই একটা টেস্ট ম্যাচে তাঁর দিকে দৌড়েও গেলেন। মাইকেল হোল্ডিং সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি আর ক্রিকেটার নন, ফুটবলার হয়ে গেছেন। তাই স্টাম্পে লাথি মারলেন। ওই সময়ের ওই ঘটনাগুলোর প্রভাব ক্রিকেটে নিশ্চিতভাবেই পড়েছে’—বক্তৃতায় বলেছেন লারা।

জিততে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া ওই ‘সর্বজয়ী’ দলটার জয়রথ থামে ১৯৯৫ সালে, ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে। কিন্তু লারা ওই সুবর্ণ সময় নিয়েও গর্বিত নন। বক্তৃতায় বললেন, ১৯৮৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে আম্পায়ারের একের পর এক সিদ্ধান্ত তাঁদের পক্ষে না এলে জয়রথ থেমে যেত সেখানেই। ইমরান খানের বলে ভিভ রিচার্ডসের এলবিডব্লুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া, আবদুল কাদিরের বলে জেফরি ডুজনের ক্যাচ আউট না দেওয়া…সবকিছুই তুলে আনলেন বক্তৃতায়।

এর দুই বছর পর ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ নিয়ে তো যেন এখনো বিব্রত লারা। তাঁর সরল স্বীকারোক্তি, ‘সবাই বলছিল, ইংল্যান্ডের (সিরিজে ভালো কিছু করার) কোনো সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু ওরা জ্যামাইকাতে জিতল। তারপর ত্রিনিদাদে বৃষ্টি সত্ত্বেও ছোট লক্ষ্যটা তাড়া করার মতো যথেষ্ট সময় তাদের হাতে ছিল। কিন্তু মাঠকর্মী বা ম্যাচের কর্মকর্তারা সেবার “ম্যাচসেরা” নির্বাচিত হওয়ার তোড়জোড় লাগালেন। ম্যাচটা যাতে শিগগিরই শুরু হতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সময় ক্ষেপণ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা যখন শুরু হলো, তখনো ইংল্যান্ডের হাতে সময় ছিল। কিন্তু আমরা পুরো এক ঘণ্টায় সাত ওভার করলাম। অন্ধকার নামল, গ্রাহাম গুচ (ইংল্যান্ড অধিনায়ক) দল নিয়ে মাঠ ছাড়লেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ড্র করল। একজন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলকে ওভাবে সময় নষ্ট করতে দেখা, খেলাটা কখনোই যেভাবে খেলা উচিত নয় সেভাবেই খেলতে দেখাটা ছিল সম্ভবত আমার জন্য সবচেয়ে অস্বস্তিকর মুহূর্ত।’

তাতে নিজের ‘ভূমিকা’ও জানালেন, ‘আমি দ্বাদশ খেলোয়াড় ছিলাম। ওই শেষ এক ঘণ্টায় কিছুক্ষণ পরপরই জুতোর ফিতা, কলা, পানি, কাশির ওষুধ…এসব নিয়ে মাঠে ঢুকছিলাম। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল।’