আব্দুল হামিদই ভরসা আওয়ামী লীগের!

0
63
আব্দুল হামিদই ভরসা আওয়ামী লীগের BBCNEWS24 BBCNEWS24
আব্দুল হামিদই ভরসা আওয়ামী লীগের BBCNEWS24 BBCNEWS24

আব্দুল হামিদই ভরসা

আওয়ামী লীগের

বিবিসিনিউজ২৪ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সংসদে আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে তার দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ এখন শুধু আনুষ্ঠানকিতা মাএ।

এছাড়া বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার যদি নির্বাচিত হন তবে এটা হবে আব্দুল হামিদের সর্বশেষ মেয়াদ। বুধবার গণভবনে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামীলীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আব্দুল হামিদকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে বলেন, “সভার সর্বসম্মতিক্রমে মাননীয় প্রধান রাষ্ট্রপতিকে আমরা আবার দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, দ্বিতীয় কোনো প্রার্থীর নাম আসেনি।

সভায় আব্দুল হামিদ- এর নাম প্রস্তাব করেন ওবায়দুল কাদের। তার কথায় সমর্থন জানিয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহম্মেদ। পাঁচ বছর আগে দেশের ২০ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পূর্বে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাতবার আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে তার জেলা কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আগামী ২৩ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আইনের বিধান অনুযায়ী  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। ১৮ ফ্রেব্রুয়ারী ভোটের জন্য ধায্য করে তফসিল ঘোষনা করেছে ইসি। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সাল থেকে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে হয়েছে সংসদ সদস্যদের। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এই বছরেই সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে হচ্ছেন তা নিয়ে আগ্রহ ছিল রাজনৈতিক মহলে। তবে সে ক্ষেত্রে প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে হামিদের উপর আস্থা রাখলেন শেখ হাসিনা।

আব্দুল হামিদকে আবার পুনরায় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাখ্যায় ওবায়দুল কাদের বলেন “বর্তমান সময়ের প্রয়োজনে, সবকিছু বিবেচনা করে; তার সুদীর্ঘ ও বণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন , দেশের ও জনগণের প্রতি তার ওয়াদা , প্রখ্যাত একজন মুক্তিযোদ্বা হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদই এই পদে পুনরায় সমাসীন থাকা খুব প্রয়োজন। তাই আমরা সবার সম্মতিক্্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রায় সোয়া ঘন্টার বৈঠকে বোর্ডের প্রায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শুধুামাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিদেশে থাকার কারণে এবং ডাঃ আলাউদ্দিন আহম্মেদ অসুস্থ থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। দ্বিতীয় মেয়াদে পূননির্বাচিত  হলে তিনি হবেন দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি। তবে স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে আব্দুল হামিদই এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি।

আব্দুল হামিদের জন্ম ১৯৪৪ সালের ১লা জানুয়ারি, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে। বঙ্গভবনের বাসিন্দা হওয়ার পরেও নিজেকে হাওরের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্ধবোধ করেন। আনুষ্ঠানিতার জীবন থেকে মুক্তি দিতে মাঝে-মাঝে তিনি ছুটে যান নিজের এলাকায়। আব্দুল হামিদের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ১৯৫৯ সালে। ছাত্রলীগে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৬১ সালে কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি যোগ দিয়েছিলেন আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে। এক পর্যায়ে এই জন্য তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিল আব্দুল হামিদ। এরপর ১৯৮৬ সালের দ্বিতীয় সংসদ, ১৯৮৮ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হন। সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত তিনি ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেন। নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন তিনি। স্পিকারের দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি সংসদ সদস্যদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন রসিক রাজনৈতিক হিসেবে।